গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক নাগরিক একই রকম ভিজ্যুতি বর্ণের গোলাকার ছায়া দেখার অভিযোগ জানিয়ে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এই অস্বাভাবিক দৃশ্যমানতা অল্প সময়ের মধ্যে স্বল্পবয়সী শিশু থেকে বয়স্ক নাগরিক পর্যন্ত বিস্তৃতভাবে প্রকাশ পায় এবং বেশিরভাগের ক্ষেত্রে তা অল্প কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ধরনের ভিজ্যুতি ছায়া দেখা চোখের রেটিনার অস্থায়ী রক্তপ্রবাহের পরিবর্তন অথবা মস্তিষ্কের ভিজ্যুতি প্রক্রিয়ার ত্রুটির ফল হতে পারে, যা দ্রুত সনাক্ত না করলে দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিশক্তি সমস্যার দিকে ধাবিত হতে পারে।
এই ঘটনাটির পটভূমি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানা যায়, সাম্প্রতিক মাসে শহরের বায়ু দূষণ মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে উচ্চে পৌঁছেছে। বিশেষত, গ্রীষ্মের শেষের দিকে সূর্যালোকে অতিরিক্ত আলোর সংস্পর্শে চোখের রেটিনার রক্তনালীগুলি প্রসারিত হতে পারে, ফলে অস্থায়ী ভিজ্যুতি ছায়া দেখা যায়। তাছাড়া, দীর্ঘ সময়ের জন্য স্ক্রিনের সামনে বসে কাজ করা, ঘুমের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত ক্যাফেইন সেবনও চোখের রক্তপ্রবাহে অস্থায়ী পরিবর্তন ঘটাতে পারে, যা এই ধরনের দৃষ্টিগোচর ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
প্রতিবেদন পাওয়ার পর, ঢাকা মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগ প্রধান ড. রশিদুল ইসলাম জানান, রোগীর অধিকাংশই কোনো স্থায়ী রোগের ইতিহাস না থাকলেও, অল্প সময়ের জন্য দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হওয়া, মাথা ঘোরা এবং চোখে ব্যথা অনুভব করেছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে চোখের ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত, কারণ কিছু ক্ষেত্রে এটি মাইগ্রেন বা রেটিনাল ভাসকুলার অবরোধের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। রোগী ও তাদের পরিবারে উদ্বেগের মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, সামাজিক মিডিয়ায় এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা বাড়ছে এবং তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করার জন্য সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানানো হচ্ছে।
অধিকাংশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে জরুরি সমীক্ষা চালু করেছে এবং শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের সঙ্গে সমন্বয় করে রোগীর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখ্য সচিব জহিরুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীর সংখ্যা সীমিত থাকলেও, ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বিস্তার রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত চোখের পরীক্ষা এবং পরিবেশগত দূষণ কমানোর জন্য নীতি নির্ধারণ করা হবে। তদুপরি, সরকারী হাসপাতালগুলোতে বিশেষ চক্ষু স্ক্রিনিং ক্যাম্প চালু করা হবে, যাতে অল্পবয়সী ও বয়স্ক উভয় গোষ্ঠীর জন্য দ্রুত সনাক্তকরণ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়।