বৃহত্তর আন্তর্জাতিক সাহিত্য জগতের সাম্প্রতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে হেইয়ান যুগের (নবম থেকে দ্বাদশ শতাব্দী) একটি অদ্ভুত জাপানি উপন্যাস—‘দ্য টেল অব গেঞ্জি’। এই গ্রন্থটি প্রাচীন জাপানের শাসক গেঞ্জি সম্রাটের জীবনী ও রোমান্সের সমন্বয়, যা ১০০০ পৃষ্ঠার বেশি বিশাল ইংরেজি অনুবাদে প্রকাশিত হয়েছে। আজকের দিনে প্রথমবারের মতো এই গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের পাঠক সমাজের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। উপন্যাসের ৫৪ নম্বর অধ্যায়ে গেঞ্জি সম্রাটের রাজনৈতিক কৌশল ও ব্যক্তিগত আবেগের জটিলতা বিশদভাবে চিত্রিত হয়েছে, যা সমসাময়িক পাঠকদের জন্যও প্রাসঙ্গিকতা বহন করে।
হেইয়ান যুগকে জাপানের সোনালী যুগ বলা হয়; এই সময়ে কবিতা, সঙ্গীত ও নান্দনিকতার বিকাশ সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছিল। ‘দ্য টেল অব গেঞ্জি’ রচিত হয়েছিল অজানা এক বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর হাতে, যিনি সম্রাটের দরবারে কাজ করতেন এবং সম্রাটের ব্যক্তিগত জীবন ও শাসনকৌশলকে বর্ণনা করতে চেয়েছিলেন। গ্রন্থটি মূলত হিরাগানা ও কানজি মিশ্রণে রচিত, যা তখনকার উচ্চবিত্ত সমাজের জন্যই সহজবোধ্য ছিল। যদিও প্রাচীন জাপানি সাহিত্যকে ‘দে শোউকু’ ও ‘গেনজি মনোগাতারি’ এর মতো রচনায় সীমাবদ্ধ করা হতো, তবে এই উপন্যাসের বিশালতা ও গঠনশৈলী পূর্বের রচনাগুলোর তুলনায় অতুলনীয়।
বাংলাদেশের সাহিত্যিক ও গবেষক সম্প্রদায় এই আবিষ্কারে উল্লসিত হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতত্ত্ব বিভাগে অধ্যাপক ড. রুবেল হক বলেন, “গেঞ্জি সম্রাটের জীবনকাহিনী আমাদের নিজস্ব ঐতিহাসিক চরিত্রের সঙ্গে তুলনা করলে নতুন দৃষ্টিকোণ উন্মোচিত হবে।” তদুপরি, জাপান-বাংলা সংস্কৃতি সংযোগে সক্রিয় ‘জাপান বেসিক সোসাইটি’ এর সভাপতি মি. তানাকা হিদেকি উল্লেখ করেছেন, “এই গ্রন্থের বাংলা অনুবাদ আমাদের পাঠকদেরকে এশীয় ক্লাসিক্যাল সাহিত্যকে ঘনিষ্ঠভাবে জানার সুযোগ দেবে।” প্রকাশনা সংস্থা ‘বইমেলা’ ইতিমধ্যে প্রথম খণ্ডের মুদ্রণ কাজ শুরু করেছে এবং পাঠক প্রতিক্রিয়া ইতিবাচকভাবে প্রত্যাশিত।
বাংলাদেশের সংস্কৃতি অধিদপ্তর এই প্রকল্পকে জাতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও আন্তর্জাতিক সাহিত্য বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সরকার উপন্যাসের সম্পূর্ণ অনুবাদ ও প্রকাশের জন্য বিশেষ তহবিল বরাদ্দ করেছে এবং জাপান সরকারের সঙ্গে যৌথ গবেষণা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। আগামী বছর থেকে এই গ্রন্থের ইন্টারনেট সংস্করণও মুক্তি পাবে, যা বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে সহজলভ্য হবে। ভবিষ্যতে আরও প্রাচীন এশীয় ক্লাসিক্যাল রচনার অনুবাদে এই মডেলটি অনুসরণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের পাঠ্য সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করবে।