পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় সংরক্ষিত বনভূমির জমি বন্দোবস্ত করে তরমুজখেত তৈরির অভিযোগ সম্প্রতি উন্মোচিত হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে ৫০০ টিরও বেশি ঝাউগাছ (ব্র্যাকলেট) কেটে ফেলা এবং বনভূমির অংশকে কৃষিজমিতে রূপান্তর করার অভিযোগে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় জনগণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ সমিতি কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বিষয়টি দ্রুত মিডিয়ার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎক্ষণাৎ হস্তক্ষেপের দাবি তীব্র হয়েছে।
রাঙ্গাবালী উপজেলায় অবস্থিত এই সংরক্ষিত বনভূমি ১৯৯৯ সালের বন সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী সরকারী রক্ষা পেয়েছে এবং এতে বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ ও প্রাণীর বাসস্থান রয়েছে। পূর্বে একই অঞ্চলে অননুমোদিত কাঠ কাটার এবং ভূমি দখলের অভিযোগ উঠে আসলেও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, ফলে স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশ কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যার সমাধানের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছেন। তরমুজখেতের পরিকল্পনা এই সংরক্ষিত এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যকে হুমকির মুখে ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অভিযোগের মুখে স্থানীয় কৃষক ও জমিদাররা দাবি করেন যে তারা সরকারী অনুমোদন পেয়ে জমি ব্যবহার করছেন এবং তরমুজ চাষের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্যদিকে, পরিবেশ সংরক্ষণ সমিতির প্রধান বলেন, “এই ধরনের অবৈধ কাঠ কাটা এবং ভূমি দখল বনভূমির ইকোসিস্টেমকে ধ্বংস করে, যা দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।” স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে জানান, ঝাউগাছের মূল ভূমিকা মাটির ক্ষয় রোধ ও বন্যপ্রাণীর আশ্রয় প্রদান করা, যা হারিয়ে গেলে এলাকার জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে।
অভিযোগের পরপরই জেলা বন বিভাগ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা 현장 পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছেন। প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে অবৈধভাবে কাটা গাছের সংখ্যা ৫০০ টিরও বেশি এবং তরমুজখেতের জন্য প্রস্তুত করা জমি প্রায় ৪০ একর। কর্তৃপক্ষ এখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি, পুনরায় গাছ রোপণ ও বনভূমি পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা তৈরি করেছে। ভবিষ্যতে এমন অনধিকারিক কার্যকলাপ রোধে কঠোর নজরদারি ও স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সমন্বিত সচেতনতা কর্মসূচি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।