গত সপ্তাহে রোড সেফটি অধিদপ্তরের জরুরি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা‑চট্টগ্রাম সংযোগকারী প্রধান সড়কে দিনের বেলাতেও গাড়ি চালানো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। গত মাসে একাধিক গাড়ি ও মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে দুইজনের মৃত্যু এবং বহুজনের গুরুতর আঘাত হয়েছে। সড়কের পৃষ্ঠে গর্ত, পিচ্ছিল প্যাভমেন্ট এবং অপর্যাপ্ত সাইনেজের ফলে চালকদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি বেড়েছে। স্থানীয় বাস ও ট্রাক চালকদের মতে, রাত্রিকালীন আলো সত্ত্বেও গতি কমিয়ে চলতে বাধ্য হচ্ছেন, যা বাণিজ্যিক গতি ও সময়সূচিকে প্রভাবিত করছে।
এই সড়কের অবনতির পেছনে বহু বছর ধরে অবহেলা ও তহবিলের ঘাটতি রয়েছে। ২০১৫ সালে নির্মাণের সময় ব্যবহৃত উচ্চমানের অ্যাসফল্টের পরিবর্তে নিম্নমানের উপাদান ব্যবহার করা হয়, ফলে সময়ের সাথে সঙ্গে পৃষ্ঠের ক্ষয় দ্রুত ঘটেছে। অতিরিক্তভাবে, সড়কের পাশে অবৈধ নির্মাণ ও গাছের শিকড়ের আক্রমণ প্যাভমেন্টকে আরও দুর্বল করেছে। পূর্বে দু'বার সরকারী তদারকি দল এই সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করলেও, যথাযথ মেরামত কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট অনুমোদন না হওয়ায় সমস্যার সমাধান হয়নি।
স্থানীয় বাসিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জানা যায়, দৈনন্দিন যাতায়াতের সময় এই সড়কের অবস্থা নিয়ে তারা ক্রমাগত উদ্বেগ প্রকাশ করে। রোড ট্রান্সপোর্ট ইউনিয়নের সভাপতি বলেন, "যদি সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বেশি প্রাণহানি হবে।" পুলিশ ট্রাফিক বিভাগও জানিয়েছে যে, দুর্ঘটনা ঘটার পরপরই জরুরি সেবা দলকে তৎক্ষণাৎ পাঠানো হয়, তবে সড়কের মৌলিক সমস্যার সমাধান না হলে এই ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হবে। স্থানীয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোও উল্লেখ করেছে যে, সড়কের অবস্থা কারণে পণ্য পরিবহনের সময় বাড়ছে, যা তাদের লাভে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
অধিদপ্তরের মুখপাত্রের মতে, সরকার এই সপ্তাহে বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করে সড়কের মেরামতের জন্য জরুরি বাজেট অনুমোদন করেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে পৃষ্ঠের পুনর্নির্মাণ, গর্ত মেরামত এবং নতুন সাইনেজ স্থাপন করা হবে। এছাড়া, অস্থায়ীভাবে গতি সীমা কমিয়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা শক্তিশালী করতে, রোড সেফটি অডিট চালু করা হবে এবং নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। এই পদক্ষেপগুলো সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, দৈনন্দিন যাত্রী ও বাণিজ্যিক গতি পুনরুদ্ধার করতে সহায়তা করবে।