ফ্রিডম হাউসের ২০২৬ সালের ‘ফ্রিডম অন দ্য নেট’ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বাংলাদেশের ইন্টারনেট স্বাধীনতা সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। ২০২০‑২০২১ সালের তুলনায় ৭০‑এর উপরে স্কোরে উঠে এসেছে, যা দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ও নীতির উন্নতির প্রতিফলন। তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গণমাধ্যমের ওপর নজরদারি ও সেন্সরশিপের প্রবণতা এখনো উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইন সংবাদপত্র ও ব্লগারদের ওপর আইনগত চাপে বৃদ্ধি পেয়েছে। এই দ্বৈত পরিস্থিতি দেশের তথ্যপ্রবাহের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।
গত দশকে বাংলাদেশের ইন্টারনেট নীতি নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। ২০১৫‑২০১৬ সালে ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ পাস হওয়ার পর অনলাইন কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা শক্তিশালী হয়। ২০১৮‑২০১৯ সালে ‘সাইবার অপরাধ আইন’ সংশোধনের ফলে মিডিয়া ও ব্লগারদের বিরুদ্ধে মামলা বাড়ে। ২০২১‑২০২২ সালে ‘সোশ্যাল মিডিয়া রেগুলেশন’ প্রস্তাবের মাধ্যমে সরকার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নজরদারি বাড়ায়। এই ধারাবাহিক নীতিগত পরিবর্তনগুলো ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে, যদিও অবকাঠামো ও গতি উন্নত হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর সরকারী মুখপাত্র মি. রাকিবুল হক বলেন, “আমরা ইন্টারনেট স্বাধীনতা বাড়াতে সচেষ্ট, তবে জাতীয় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কিছু সীমা প্রয়োজন।” গণমাধ্যম সমিতির সভাপতি মিসেস সোহনা আহমেদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “সেন্সরশিপের ছায়া এখনও রয়ে গেছে, যা সাংবাদিকদের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করছে।” সিভিল সোসাইটি কর্মী মি. আবদুল হক যুক্ত করেন, “ডিজিটাল অধিকার রক্ষার জন্য আইনি কাঠামোকে আরও স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক করতে হবে।” এই বক্তব্যগুলো জনসাধারণের মধ্যে ইন্টারনেট স্বাধীনতার প্রতি মিশ্র অনুভূতি প্রকাশ করেছে।
এই পরিস্থিতিতে সরকার ‘ডিজিটাল ফ্রি ডে’ উদ্যোগ চালু করেছে, যার আওতায় অনলাইন সেন্সরশিপ কমানো ও মিডিয়া লিগ্যাল কাউন্সেলিং বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ‘ইন্টারনেট ফ্রি অ্যাক্সেস’ প্রকল্পের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় ব্রডব্যান্ড প্রসারিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট’ সংশোধনের মাধ্যমে মিডিয়া ও নাগরিকদের অধিকার রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করছেন, কেবল অবকাঠামো নয়, নীতিগত স্বচ্ছতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।