গতকাল সন্ধ্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে একাধিক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ভয়াবহ প্রতারণা চালু হয়েছে, যেখানে অপরাধীরা শিকারের পরিবারের সদস্যদের ফোনে কল করে অস্বাভাবিক দাবি করে টাকা পাঠাতে বাধ্য করে। বিশেষ করে এক গ্রামাঞ্চলে, এক যুবককে ফোনে জানিয়ে বলা হয় যে তার বাবার হৃদরোগের কারণে জরুরি চিকিৎসা দরকার এবং মরেটরে যাওয়ার জন্য ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পাঠাতে হবে, না হলে তার জীবন হুমকির মুখে পড়বে। এই ধরনের কলের ফলে শিকারের মধ্যে আতঙ্ক ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে, এবং দ্রুতই স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয়।
এই প্রতারণার পেছনে কাজ করা অপরাধী গোষ্ঠী পূর্বে একই রকম ফোন স্ক্যাম চালিয়ে আসছে, যেখানে তারা শিকারের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অপ্রয়োজনীয় অর্থ দাবি করে। সাধারণত তারা শিকারের পরিবারের কোনো রোগী বা জরুরি পরিস্থিতি নিয়ে মিথ্যা তথ্য তৈরি করে, এবং শিকারের ভয়কে কাজে লাগিয়ে দ্রুত টাকা পাঠাতে বলবে। এই পদ্ধতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে, কারণ অপরাধীরা কলার আইডি পরিবর্তন করে নিজের পরিচয় লুকিয়ে রাখে এবং ভয়াবহ কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে শিকারের বিশ্বাস অর্জন করে।
প্রতিবেদন পাওয়া শিকারের পরিবার জানান যে, তারা প্রথমে ফোনের কথায় বিশ্বাস করে টাকা পাঠাতে চেয়েছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে সন্দেহজনক কিছু লক্ষ্য করে পুলিশে জানায়। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার মতে, এই ধরনের ফোন স্ক্যাম রোধে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে এবং কোনো জরুরি আর্থিক অনুরোধে সরাসরি ব্যাংক বা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করা উচিত। এছাড়া, শিকারের পরিবারে এই ঘটনার ফলে মানসিক চাপ ও উদ্বেগের মাত্রা বেড়েছে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলেছে।
অপরাধ বিরোধী বিভাগ এখন পর্যন্ত এই ফোন স্ক্যাম নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট নম্বরগুলো ব্লক করে অপরাধী গোষ্ঠীর কার্যক্রম থামাতে পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি, তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও টেলিকম সংস্থাগুলোকে একত্রে কাজ করে কলার আইডি পরিবর্তনের প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রতারণা রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ফোনের মাধ্যমে প্রাপ্ত আর্থিক অনুরোধের সত্যতা যাচাই এবং দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলা হয়েছে।