বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়‑সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আজ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির পূর্বে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তোলা হয়। কমিটির সদস্যরা মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত বাজেট, প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যের বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়ে দাবি করেন যে, কোনো চুক্তি স্বাক্ষরের পূর্বে পূর্ণাঙ্গ গবেষণা ও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা আবশ্যক। এই প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সময়সীমা ও অর্থায়ন কাঠামোও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে, যা দেশের বিমান শিল্পের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উত্থাপিত।
মন্ত্রণালয় গত কয়েক বছরে পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংযোগ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বহু উড়োজাহাজ ক্রয়ের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। তবে পূর্বে গৃহীত কিছু চুক্তিতে সরবরাহের দেরি, রক্ষণাবেক্ষণ খরচের অপ্রত্যাশিত বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত অসামঞ্জস্যের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিখে, নতুন ক্রয়ের পূর্বে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, আর্থিক বিশ্লেষণ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে তুলনা করা প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা জোর দেন। এছাড়া, বাজেটের সীমাবদ্ধতা এবং সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা অপরিহার্য।
কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উড়োজাহাজ সরবরাহকারী কোম্পানির প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করেন। মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তির জন্য প্রাথমিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং তা সরকারী অনুমোদন প্রাপ্ত। তবে বিরোধী দলগুলোর প্রতিনিধি দাবি করেন, সমীক্ষার ফলাফল ও বিশদ প্রতিবেদন পাবলিকভাবে প্রকাশ না করা স্বচ্ছতার অভাব নির্দেশ করে। বিমান শিল্পের বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন, সম্ভাব্যতা যাচাই না করলে ভবিষ্যতে অতিরিক্ত ব্যয় ও অপারেশনাল সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে অনাকাঙ্ক্ষিত বোঝা যোগাবে। সাধারণ জনগণও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, বিশেষ করে ট্যাক্সদাতাদের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
কমিটি এখন থেকে মন্ত্রণালয়কে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রতিবেদন, আর্থিক মডেল এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দেয়। এছাড়া, স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের অডিটের মাধ্যমে চুক্তির ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা যাচাই করার প্রস্তাবও করা হয়। ভবিষ্যতে উড়োজাহাজ ক্রয়ের ক্ষেত্রে একটি মানদণ্ডিক প্রক্রিয়া গড়ে তোলার জন্য বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তৈরি করা হবে, যাতে সরকারী সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় থাকে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের বিমান শিল্পের উন্নয়নকে টেকসই ও দায়িত্বশীল করে তুলতে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।