৩৬ বছরের দীর্ঘ ব্যবধানে নির্জন পথে দুই পাশে অবস্থিত ফসলি জমিগুলো ধীরে ধীরে নগরী রূপে রূপান্তরিত হয়েছে। একসময় প্রেমিক-প্রেমিকার গোপন সাক্ষাৎস্থল হিসেবে পরিচিত 'প্রেমতলা' আজ বাজার, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কার্যালয় এবং সরকারি‑বেসরকারি বিভিন্ন সেবার সমাবেশে পরিণত হয়েছে। এই পরিবর্তন স্থানীয় জনগণের দৈনন্দিন জীবনে নতুন দৃষ্টিকোণ এনে দিয়েছে এবং শহুরে উন্নয়নের একটি স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উন্মোচিত হয়েছে।
প্রেমতলা মূলত গ্রামাঞ্চলের একটি শান্তিপূর্ণ স্থান ছিল, যেখানে তরুণ-তরুণী গোপনীয় আলাপচারিতা করত এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের সান্নিধ্যে সময় কাটাত। তবে শহরের সীমানা সম্প্রসারণ, রোড নেটওয়ার্কের উন্নয়ন এবং জমি মালিকদের বিক্রয় উদ্যোগের ফলে এই অঞ্চলটি ধীরে ধীরে নগরায়নের পথে অগ্রসর হয়। স্থানীয় পরিকল্পনা পরিষদ ১৯৮০-এর দশকে এই এলাকায় বাণিজ্যিক জোনের পরিকল্পনা অনুমোদন করে, এবং পরবর্তী দশকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এখানে তাদের কার্যক্রম স্থাপন করে। ফলে ফসলি জমি ধ্বংস হয়ে নতুন নির্মাণের ভিত্তি গড়ে ওঠে।
এখানে বসবাসকারী পুরনো বাসিন্দারা পরিবর্তনকে মিশ্র অনুভূতিতে গ্রহণ করেছেন। একদল বৃদ্ধ গ্রামবাসী বলেন, "এখানে আগে শুধু গাছের ছায়া আর হাওয়া ছিল, এখন গাড়ি-গণনা, দোকান-দোকান। যদিও কাজের সুযোগ বেড়েছে, তবে শৈশবের স্মৃতি হারিয়ে গেছে।" অন্যদিকে নতুন ব্যবসায়ী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মীরা উল্লেখ করেন, "এই অঞ্চল এখন যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধির কেন্দ্র, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে উজ্জীবিত করে।" স্থানীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রধানও জানান, "প্রশিক্ষণ কার্যালয়টি যুবকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, যা দীর্ঘমেয়াদে অঞ্চলের সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।"
অধিদপ্তর ও পৌরসভার সমন্বয়ে বর্তমানে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে। রোডের পৃষ্ঠ সমতল করা, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নিরাপদ পার্কিং সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও সামাজিক সুবিধা যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মচারীরা উন্নত সেবা পেতে পারেন। একই সঙ্গে, ঐতিহাসিক স্মৃতিচিহ্ন সংরক্ষণের জন্য একটি স্মারক পার্কের ধারণা মঞ্জুর করা হয়েছে, যাতে প্রেমতলার অতীতের স্মৃতি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে যায়।