সৈকতের বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিশাল ‘দানব’ আকৃতির ভাস্কর্য, যা পুরোপুরি পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে গঠিত। ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে চট্টগ্রামের কক্সবাজারে প্রথমবার প্রকাশিত এই শিল্পকর্মটি দ্রুতই পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। দর্শনার্থীরা ভিড় করে ছবি তুলছে, সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করছে এবং পরিবেশ সচেতনতার বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছে। এই ভাস্কর্যটি শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, বরং প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবেও কাজ করছে।
এই ‘দানব’ ভাস্কর্যটির স্রষ্টা হলেন চট্টগ্রামভিত্তিক তরুণ শিল্পী রাহুল হোসেন, যিনি ২০১৯ সাল থেকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণে কাজ করছেন। তিনি বলেন, “আমার লক্ষ্য ছিল এমন একটি রূপ তৈরি করা যা মানুষকে প্লাস্টিকের অপব্যবহার সম্পর্কে ভাবতে বাধ্য করবে।” ৪০ টিরও বেশি শিল্পকর্মের মধ্যে এই ভাস্কর্যটি সবচেয়ে বড়, যার উচ্চতা প্রায় ১২ মিটার এবং ওজন ৩ টনেরও বেশি। নির্মাণে ১,৫০০ টিরও বেশি প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলো স্থানীয় বর্জ্য সংগ্রাহকরা সংগ্রহ করে এনে পরিষ্কার করে দিয়েছেন।
স্থানীয় পর্যটন অধিদপ্তরের মুখপাত্র মেহেদী রেজা বলেন, “এই উদ্যোগটি আমাদের শহরের পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” রাহুল হোসেনও যোগ করেন, “আমরা চাই মানুষ যেন বুঝতে পারে, প্লাস্টিকের ছোট্ট টুকরোও মিলিয়ে বিশাল ক্ষতি করতে পারে।” দর্শনার্থীরা ভাস্কর্যের সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলতে গিয়ে বলেন, “এটা সত্যিই চমৎকার, এবং আমাদের প্লাস্টিকের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়া উচিত।” এই ধরনের প্রতিক্রিয়া স্থানীয় মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
চট্টগ্রাম পৌরসভা এবং পরিবেশ মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে ভাস্কর্যের চারপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং বর্জ্য সংগ্রহের জন্য বিশেষ টিম গঠন করেছে। আগামী মাসে ‘প্লাস্টিক মুক্ত সমুদ্র’ শিরোনামে একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে। এছাড়াও, শহর প্রশাসন প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের জন্য নতুন রিসাইক্লিং কেন্দ্র স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে, যা ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলো পরিবেশ রক্ষায় দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।