গতকাল দুপুরে ঢাকা শহরের রোড সেক্টর‑৩‑এ পরিচালিত এক জরুরি নিরাপত্তা পরীক্ষায় ‘গোলাবি বল’ নামে পরিচিত উচ্চগতির সিগন্যাল ডিভাইসটি সক্রিয় করা হয়। পরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল শহরের প্রধান রাস্তায় যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা হ্রাসের সম্ভাবনা যাচাই করা। পরীক্ষার ফলাফল তৎক্ষণাৎ মিডিয়ায় প্রচারিত হয় এবং জনসাধারণের মধ্যে তীব্র আলোচনার সূচনা করে। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, যদি এই প্রযুক্তি সঠিকভাবে প্রয়োগ করা যায় তবে ট্রাফিক জ্যাম কমে এবং রাস্তায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। তবে একই সঙ্গে কিছু নাগরিকের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যায় যে, অপ্রত্যাশিত সিগন্যালের ফলে গাড়ি চালকদের বিভ্রান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
‘গোলাবি বল’ প্রকল্পটি মূলত ২০১৯ সালে জাতীয় রোড নিরাপত্তা উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত হয়। পূর্বে যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে অনুরূপ সিগন্যাল ব্যবস্থা সফলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে এবং তা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য ফলাফল দেখিয়েছে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তি প্রয়োগের জন্য পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সিটি কর্পোরেশন যৌথভাবে একটি পাইলট প্রকল্প চালু করে। পাইলট প্রকল্পের পূর্বে কয়েকটি ছোট শহরে সীমিত পরিসরে পরীক্ষামূলক চালনা করা হয়েছিল, যেখানে গড়ে ১৫% ট্রাফিক জ্যাম হ্রাস এবং দুর্ঘটনা হার ১০% কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। তবে প্রযুক্তিগত দিক থেকে কিছু ত্রুটি, যেমন সিগন্যালের সময়সীমা সমন্বয় এবং ডিভাইসের রক্ষণাবেক্ষণ, এখনও সমাধান করা বাকি।
পরীক্ষার পরে পরিবহন মন্ত্রীর সহকারী, শ্রীমতি রেহানা বেগম, বললেন, ‘গোলাবি বলের মাধ্যমে আমরা রাস্তায় নিরাপত্তা ও গতি নিয়ন্ত্রণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারি।’ অন্যদিকে, ঢাকা ট্রাফিক পুলিশের প্রধান, শ্রী রাহুল চৌধুরী, উল্লেখ করেন, ‘প্রাথমিক পর্যায়ে ডিভাইসের সঠিক ক্যালিব্রেশন না হলে চালকদের বিভ্রান্তি বাড়তে পারে, তাই অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন’। নাগরিক অধিকার সংস্থার প্রতিনিধিও উদ্বেগ প্রকাশ করেন, ‘যদি সিগন্যালের ত্রুটি জনসাধারণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলে, তবে তা অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত’। ব্যবসায়িক সংস্থা, বিশেষ করে ডেলিভারি সেবা প্রদানকারী, এই প্রযুক্তিকে স্বাগত জানায়, কারণ তারা আশা করে দ্রুত ডেলিভারি সময় এবং কম জ্যাম তাদের কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এইসব মতবিরোধের মধ্যে জনমত বিভক্ত, তবে অধিকাংশ মানুষ এই নতুন ব্যবস্থা সম্পর্কে তথ্য জানার পরই মত গঠন করে।
পরিবহন মন্ত্রণালয় পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ‘গোলাবি বল’কে শহরের প্রধান রাস্তায় ধাপে ধাপে স্থাপন করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে, মন্ত্রিপরিষদে একটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে ডিভাইসের কার্যকারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড নির্ধারণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। টাস্ক ফোর্সের সদস্যদের মধ্যে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, ট্রাফিক বিশ্লেষক এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে, যাতে বহুমুখী দৃষ্টিকোণ থেকে সমন্বিত নীতি গঠন করা যায়। অতিরিক্তভাবে, মন্ত্রণালয় আগামী মাসে একটি ব্যাপক জনসচেতনতা ক্যাম্পেইন চালু করবে, যেখানে চালক ও পথচারীদের নতুন সিগন্যাল ব্যবস্থার ব্যবহার পদ্ধতি ও নিরাপত্তা নির্দেশনা প্রদান করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার ‘গোলাবি বল’কে টেকসই ও নিরাপদ রোড পরিবহন ব্যবস্থার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্য রাখছে।