বেসামরিক সেবা (বিসিএস) সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষক পদে কর্মরত এক হাজার আটশো কর্মকর্তা গত নয় বছর ধারাবাহিকভাবে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এই দীর্ঘমেয়াদী অগ্রগতিহীনতা তাদের বেতন, পেনশন এবং ক্যারিয়ার উন্নয়নের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলছে। প্রভাষকবৃন্দের সমষ্টিগত আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, একই ক্যাডারের অন্যান্য পদে সময়মতো পদোন্নতি প্রদান করা হলেও, তাদের ক্ষেত্রে কোনো স্বচ্ছ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। ফলে, প্রভাষকবৃন্দের মনোবল হ্রাস পেয়েছে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে দক্ষ কর্মী ধরে রাখার ক্ষেত্রে গুরুতর চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতি সমাধানের জন্য তারা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।
বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতি প্রক্রিয়া মূলত কর্মকালের ভিত্তিতে এবং পারফরম্যান্স রেটিং, প্রশিক্ষণ সেমিনার ও গবেষণার ফলাফলের ওপর নির্ভরশীল। তবে, গত দশকে প্রভাষক পদে নির্দিষ্ট কোনো মানদণ্ড নির্ধারিত হয়নি এবং প্রোফাইল যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ডেটাবেসের অভাবের কারণে পদোন্নতির তালিকায় প্রভাষকবৃন্দের নাম প্রায়শই বাদ পড়ে। পূর্বে ২০১৫ এবং ২০১৮ সালে সংশ্লিষ্ট বিভাগে কয়েকটি স্বল্পমেয়াদী সমন্বয় করা হয়েছিল, তবে সেগুলো কেবলমাত্র অস্থায়ী সমাধান হিসেবে কাজ করেছে। এই ধীরগতির পেছনে প্রশাসনিক অদক্ষতা, বাজেটের অপ্রতুলতা এবং ক্যাডার গঠন সংক্রান্ত নীতিগত অস্পষ্টতা প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
প্রভাষকবৃন্দের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন সভাপতি শ্রীমতি রেহানা বলছেন, “নয় বছর ধরে আমাদের ক্যারিয়ার স্থবির, আর্থিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে। সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে শিক্ষার মান হ্রাস পাবে।” শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জনাব আহমেদ উল্লেখ করেছেন, “পদোন্নতি বিষয়ক বিষয়টি বর্তমানে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং শীঘ্রই সুপারিশ উপস্থাপন করা হবে।” সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে; শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদরা একত্রে সামাজিক মিডিয়ায় প্রভাষকবৃন্দের ন্যায়বিচার দাবি করছেন।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে একটি স্বতন্ত্র কমিটি গঠন করেছে, যার সদস্য হিসেবে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ক্যাডার বিশেষজ্ঞ এবং প্রভাষক প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই কমিটি আগামী মাসের শেষের দিকে পদোন্নতির মানদণ্ড পুনর্বিবেচনা করে একটি সুস্পষ্ট সময়সূচি প্রকাশের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি, প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি লিখিত আবেদনপত্র পাঠিয়ে তাদের হস্তক্ষেপের অনুরোধ করা হয়েছে এবং মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ দ্রুততর করে প্রভাষকবৃন্দের বেতন ও পদোন্নতি সমস্যার সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। ভবিষ্যতে এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদী অমিল রোধে ক্যাডার নীতি সংশোধন এবং স্বয়ংক্রিয় ডেটা সিস্টেমের প্রয়োগের কথাও আলোচনা চলছে।