ঢাকার কেন্দ্রে অবস্থিত শারদীয় দুর্গোৎসব ২০২৪ সালের ২৭ ও ২৮ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়। এই উৎসবে হাজার হাজার দর্শক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী একত্রিত হয়ে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য, সঙ্গীত ও নাট্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে শারদীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধি তুলে ধরেন। প্রধান মঞ্চে শারদীয় লোকনৃত্যের চমৎকার পরিবেশনা, সঙ্গীতশিল্পীদের সুরেলা সঙ্গীত এবং নাট্যশিল্পীদের মঞ্চকলা দর্শকদের মুগ্ধ করে। এই সমাবেশে শারদীয় ঐতিহ্যের প্রতি সমগ্র সমাজের একাত্মতা ও গর্ব প্রকাশ পায়।
শারদীয় দুর্গোৎসবের ইতিহাস ১৯৫০ দশকে শুরু হয়, যখন শারদীয় সমাজের নেতারা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে উদ্যোগ নেন। এরপর থেকে প্রতি বছর এই উৎসব আয়োজন হয়ে আসছে, যা শারদীয় সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে দৃঢ় করে। ২০২৪ সালের এই সংস্করণে বিশেষ করে শারদীয় ঐতিহ্যবাহী পোশাক, লোকগীতি ও ঐতিহ্যবাহী খাবারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, শারদীয় শিল্পীদের নতুন সৃষ্টির জন্যও একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে।
উৎসবে অংশগ্রহণকারী শারদীয় নেতারা বলেন, “এই উৎসব আমাদের ঐতিহ্যকে জীবন্ত রাখছে এবং নতুন প্রজন্মকে শারদীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করছে।” শারদীয় সংগীতশিল্পী রমেশ চক্রবর্তী বলেন, “সঙ্গীতের মাধ্যমে আমরা শারদীয় মানুষের হৃদয়ে ঐক্য ও আনন্দের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছি।” দর্শকরা শারদীয় নৃত্য ও সঙ্গীতের প্রতি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে, এবং অনেকেই বলেন যে এই উৎসব তাদের শারদীয় পরিচয়কে পুনরুজ্জীবিত করেছে।
শারদীয় দুর্গোৎসব আয়োজনকারী সাংস্কৃতিক সমিতি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এই বছরের উৎসবটি সফল হয়েছে কারণ আমরা নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সংক্রান্ত সকল ব্যবস্থা যথাযথভাবে পালন করেছি।” ভবিষ্যতে সমিতি আরও বেশি সাংস্কৃতিক কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনা করছে, যাতে শারদীয় ঐতিহ্যকে আরও বিস্তৃতভাবে প্রচার করা যায়। এছাড়া, স্থানীয় প্রশাসনও শারদীয় দুর্গোৎসবকে সমর্থন করে চলেছে এবং আগামী বছরেও এই উৎসবকে আরও বড় করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।