রাজধানীর একটি প্রাণকেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘স্টাডি অ্যাব্রোড ফেয়ারে’ দেশের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল থেকে শুরু হওয়া এই মেলায় বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, ভর্তি প্রক্রিয়া এবং বৃত্তির তথ্য জানতে হাজারো শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন। মেলার আয়োজকদের তথ্যমতে, প্রথম দিনইই এখানে প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি মানুষ এসেছেন, যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। শিক্ষার্থীরা মূলত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য এবং সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সাথে সরাসরি কথা বলে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। এই মেলায় শুধুমাত্র শিক্ষার্থীরাই নয়, তাদের অভিভাবকরাও ব্যাপকভাবে উপস্থিত ছিলেন, যারা সন্তানদের ভবিষ্যৎ পেশাগত উন্নয়ন ও বিদেশে বসবাসের খরচ-খরচের হিসাব নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করছেন।
এই মেলার পটভূমি হিসেবে বিবেচনা করা যায় দেশের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের প্রবণতার দ্রুত বৃদ্ধি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়াশোনার জন্য আরও আগ্রহী হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে প্রযুক্তি, চিকিৎসা, ব্যবসায় প্রশাসন এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে। দেশের অভ্যন্তরে উচ্চশিক্ষার প্রতিযোগিতা এবং কর্মসংস্থানের চাপের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিদেশকে একটি বিকল্প হিসেবে দেখছেন। এছাড়া, বিভিন্ন দেশের সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৃত্তি ও সহায়তা প্রদান করায় এই আগ্রহ আরও বেড়েছে। মেলার আয়োজকরা জানান, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পড়াশোনার জন্য আবেদনকারীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে, যা এই মেলার জনপ্রিয়তার পেছনে প্রধান কারণ।
সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বক্তব্যে জানা গেছে, তারা মূলত বিদেশে পড়াশোনার খরচ, ভিসা প্রক্রিয়া এবং পড়াশোনা শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিয়ে বিস্তারিত জানতে চেয়েছেন। একজন অভিভাবক বলেন, ‘আমরা আমার সন্তানকে একটি ভালো পেশা দেওয়ার জন্য বিদেশে পাঠাতে চাই, কিন্তু খরচের বিষয়টি আমাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই এই মেলার মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ ও বৃত্তির তথ্য জানতে পারছি।’ অন্যদিকে, একজন শিক্ষার্থী জানান, ‘বিদেশে পড়াশোনা করার মাধ্যমে আমি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা পেতে চাই এবং আমার পেশাগত জীবন গড়ে তুলতে চাই। এই মেলা আমাকে বিভিন্ন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে সঠিক ধারণা দিচ্ছে।’ অভিভাবকদের মধ্যে অনেকেই উল্লেখ করেন যে, তারা সন্তানদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।
কর্তৃপক্ষ ও মেলার আয়োজকরা জানান, এই মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঠিক তথ্য প্রদান এবং ভুল তথ্য থেকে রক্ষা করা তাদের মূল উদ্দেশ্য। তারা দাবি করেন, মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারেন, যা ভুল তথ্যের শিকার হওয়া থেকে রক্ষা করে। ভবিষ্যতে এই ধরনের মেলা আরও বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যাতে দেশের আরও বেশি শিক্ষার্থী উপকৃত হতে পারে। আয়োজকরা আশা করছেন, এই মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা বিদেশে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে আরও সফল হবেন এবং দেশের শিক্ষা খাতের মান উন্নয়নে অবদান রাখবেন। মেলার শেষ দিন পর্যন্ত হাজারো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতির আশা করা হচ্ছে, যা দেশের শিক্ষা খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।