২০২৪ সালের বিশ্ব পোলিও দিবসের উপলক্ষে আজ ঢাকা শহরের কেন্দ্রীয় পার্কে রোটারি ইন্টারন্যাশনালের র্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। র্যালির পথে সশস্ত্র স্বেচ্ছাসেবক, স্বাস্থ্য কর্মী এবং বিভিন্ন বয়সের নাগরিক অংশগ্রহণ করে পোলিও নির্মূলের লক্ষ্যে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। র্যালির মূল থিম 'শিশুদের টিকাদান, পোলিওমুক্ত ভবিষ্যৎ' হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে এবং রঙিন ব্যানার, পোস্টার ও সঙ্গীতের মাধ্যমে বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। উপস্থিত ভিড়ের মধ্যে পরিবার, শিক্ষার্থী ও মিডিয়া প্রতিনিধিরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে এই সামাজিক আন্দোলনের তাৎক্ষণিক গুরুত্বকে তুলে ধরেছে। এই র্যালি শুধুমাত্র একটানা প্যারেড নয়, বরং টিকাদান কেন্দ্রের স্থাপন, তথ্যবহুল স্টল এবং পোলিও সংক্রান্ত তথ্যবহুল পুস্তিকার বিতরণসহ বহু কার্যক্রমের সমন্বয়ে গঠিত।
পোলিও রোগের ইতিহাসে দেখা যায়, ১৯৯০ দশকের শেষের দিকে বিশ্বব্যাপী পোলিও কেসের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছিল, তবে সম্পূর্ণ নির্মূলের পথে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে টিকাদানের ঘাটতি, স্বাস্থ্যসেবার অপ্রতুলতা এবং তথ্যের অভাবের কারণে রোগের পুনরুৎপাদন ঘটেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও জাতিসংঘের সমন্বয়ে গৃহীত 'গ্লোবাল পোলিও ইরেডিকেশন ইনিশিয়েটিভ' এই সমস্যাগুলোর সমাধানে বহু বছর ধরে কাজ করে আসছে। ঢাকায় আজকের র্যালি এই আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার স্থানীয় বাস্তবায়ন হিসেবে বিবেচিত হয় এবং পোলিও নির্মূলের লক্ষ্যে জনসচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রোটারি ইন্টারন্যাশনালের সভাপতি ড. মুহাম্মদ রশিদ বলেন, 'পোলিও নির্মূলের জন্য টিকাদানই একমাত্র কার্যকর উপায়; আজকের র্যালি সেই বার্তাকে সর্বসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে'। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শ্রীমতি রেহানা বেগম উল্লেখ করেন, 'সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে টিকাদান ক্যাম্পেইন চালু করা হয়েছে; র্যালি আমাদের প্রচারণার একটি শক্তিশালী অংশ'। স্থানীয় বাসিন্দা রাহিমুল ইসলাম, যিনি র্যালিতে অংশগ্রহণকারী স্বেচ্ছাসেবক, জানান, 'শিশুদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে আমরা সবাই মিলে কাজ করছি; টিকাদানকে উৎসাহিত করা আমাদের দায়িত্ব'। মিডিয়া প্রতিবেদন অনুসারে, র্যালি চলাকালীন টিকাদান কেন্দ্রের সামনে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করা মানুষদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা জনসচেতনতার ইতিবাচক প্রভাবকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করে।
সরকারি স্বাস্থ্য বিভাগ র্যালির পরপরই ঢাকার বিভিন্ন জেলা ও উপশহরে টিকাদান ক্যাম্প চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। আগামী মাসে পাঁচটি নতুন টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন, মোবাইল ভ্যাকসিন ইউনিটের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় পৌঁছানো এবং টিকাদান সংক্রান্ত তথ্য প্রচারের জন্য টেলিভিশন ও রেডিও বিজ্ঞাপন চালু করা হবে। এছাড়া, রোটারি ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে সমন্বয় করে 'পোলিওমুক্ত শিশু' শিরোনামে একটি জাতীয় পুরস্কার অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে টিকাদান প্রচেষ্টায় উৎকৃষ্ট কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সম্মানিত করা যায়। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, ধারাবাহিক টিকাদান ও জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে পোলিও নির্মূলের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে অর্জন করা সম্ভব হবে।