বৃহস্পতিবার জাতীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইসলামিক গবেষণা কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে 'ঘরে বসে কোরআনের অর্থ শিখুন' শিরোনামে একটি অনলাইন শিক্ষাক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল সঠিক পদ্ধতি ও একাগ্রতা বজায় রেখে বাড়িতে বসেই কোরআনের মর্মার্থ গভীরভাবে আয়ত্ত করা সম্ভব করা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর সহকারী সচিব, ইসলামিক গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ও বহুজন শিক্ষাবিদ উপস্থিত ছিলেন এবং তারা এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষত, বর্তমান সময়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির বিস্তৃতি ও মহামারীর পরিপ্রেক্ষিতে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে শারীরিক সংস্পর্শ কমে যাওয়ায় ধর্মীয় শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তা বাড়ে। প্রোগ্রামের কাঠামোতে তফসির, তাফসির, তিলাওয়াত ও তফসিরের বিশ্লেষণমূলক পাঠ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের ভাষাগত দক্ষতা ও ধর্মীয় বোধগম্যতা উভয়ই সমৃদ্ধ করে। এছাড়া, সাপ্তাহিক লাইভ সেশন ও প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সরাসরি শিক্ষকের সঙ্গে মিথস্ক্রিয়া করতে পারবেন।
কোরআন শিক্ষার ঐতিহ্যগত পদ্ধতি প্রধানত মসজিদ ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সরাসরি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শহুরে জীবনের তীব্রতা, কর্মজীবনের চাপ ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে অনেক পরিবার ঘরে বসে ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণে বাধা অনুভব করছিল। বিশেষত, গ্রামীণ ও দূরবর্তী অঞ্চলে যোগ্য শিক্ষক পাওয়া কঠিন হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রায়শই আংশিক বা ভুল ব্যাখ্যার শিকার হয়ে পড়ত। এই ঘাটতি পূরণের জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়ানো এবং সঠিক শিক্ষণ পদ্ধতি নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গবেষণা কেন্দ্রের বিশ্লেষণে দেখা যায়, অনলাইন শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের হার ৭৫ শতাংশে পৌঁছেছে, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসলামিক গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ড. মুহাম্মদ রশিদ আলী বলেন, “কোরআনের মর্মার্থ সঠিকভাবে বুঝতে হলে ধারাবিকতা, একাগ্রতা এবং পদ্ধতিগত বিশ্লেষণ অপরিহার্য। এই প্ল্যাটফর্মটি শিক্ষার্থীদের জন্য একধরনের সেতু, যা ঘরের আরাম থেকে সরাসরি তফসিরের গভীরতা উপলব্ধি করতে সহায়তা করবে।” এছাড়া, প্রথম সপ্তাহে নিবন্ধিত ১,২০০ জন শিক্ষার্থী থেকে প্রাপ্ত মতামতে দেখা যায়, অধিকাংশই শিক্ষার গুণগত মান ও সময়সীমার নমনীয়তা নিয়ে সন্তুষ্ট। কিছু শিক্ষার্থী উল্লেখ করেন, “বাড়িতে সন্তানকে কোরআন শেখাতে সময়ের অভাব ছিল, এখন এই সিস্টেমের মাধ্যমে আমরা একসাথে পাঠ করতে পারি এবং প্রশ্নের উত্তর তৎক্ষণাৎ পেতে পারি।” সমাজের বিভিন্ন স্তরে এই উদ্যোগের প্রশংসা বাড়ছে এবং ধর্মীয় জ্ঞানের বিস্তারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় এই উদ্যোগকে জাতীয় স্তরে প্রসারিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। আগামী ত্রৈমাসিকে দেশের সব প্রদেশে স্থানীয় ভাষা ও উপভাষা অনুযায়ী কাস্টমাইজড কোর্স চালু করা হবে, যাতে প্রত্যেক শিক্ষার্থী তার ভাষাগত সুবিধা বজায় রেখে কোরআনের অর্থ শিখতে পারে। এছাড়া, শিক্ষকের প্রশিক্ষণ ও মান নিশ্চিত করার জন্য একটি স্বতন্ত্র তদারকি কমিটি গঠন করা হবে এবং নিয়মিত মূল্যায়ন সিস্টেম চালু করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে, এই প্ল্যাটফর্মকে আন্তর্জাতিক স্তরে পরিচিত করে, অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়ে, একসাথে ইসলামী শিক্ষার মানোন্নয়ন করা লক্ষ্য রাখা হয়েছে।