ইউরোপের বিভিন্ন শহরে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে জেন‑জিরা (১৯৯৭‑২০১২ জন্মগ্রহণকারী) তরুণদের বৃহৎ প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও বাসস্থানের সমস্যার সঙ্গে সঙ্গে ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর থেকে বৃদ্ধি পাওয়া সামাজিক বৈষম্যকে কেন্দ্র করে তরুণরা ন্যায়বিচার, সমতা ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা দাবি করে রাস্তায় নেমে এসেছে। এই আন্দোলন কেবল স্থানীয় নয়, বরং সমগ্র মহাদেশে তরুণদের মধ্যে একতাবদ্ধ সুরের প্রতিফলন ঘটিয়ে তুলেছে, যা নীতি নির্ধারক ও সমাজের সকল স্তরে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর ইউরোপীয় অর্থনীতিতে আয়-সম্পদের বৈষম্য দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে পার্থক্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের জন্য সাশ্রয়ী বাসস্থান, গুণগত মানের শিক্ষা ও স্থিতিশীল কর্মসংস্থানের সুযোগ হ্রাস পেয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি ও গ্লোবালাইজেশনের ফলে শ্রমবাজারে স্বয়ংক্রিয়তা ও আউটসোর্সিংয়ের প্রবণতা বেড়েছে, যা নিম্ন দক্ষতার কর্মীকে প্রান্তিক করে তুলেছে। এই পটভূমিতে জেন‑জিরা পূর্বের প্রজন্মের তুলনায় উচ্চ প্রত্যাশা ও সামাজিক সচেতনতা নিয়ে বেড়ে উঠেছে, ফলে তারা নিজেদের ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে দেখতে শুরু করেছে।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া তরুণ নেতারা একাধিক সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, “আমরা আর দেরি করতে পারি না; আমাদের ভবিষ্যৎ এখনই রক্ষা করতে হবে।” অর্থনীতিবিদরা যুক্তি দিয়েছেন, “বৈষম্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্ষতিগ্রস্ত করে।” সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে এই আন্দোলনের প্রতি মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; কিছু মানুষ তরুণদের দাবি সমর্থন করে, আবার অন্যরা প্রতিবাদকে অস্থিরতা হিসেবে দেখে। মিডিয়া সংস্থা গুলোও ব্যাপকভাবে বিষয়টি তুলে ধরেছে, যা জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা এখনো এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের চেষ্টা করছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলো কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নতুন গ্রান্ট স্কিম চালু করেছে, পাশাপাশি সাশ্রয়ী বাসস্থান প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য ডিজিটাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করছে, যাতে তারা আধুনিক শ্রমবাজারের চাহিদা মেটাতে পারে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, এই নীতি বাস্তবায়নে সময় ও সম্পদের যথাযথ বরাদ্দ না হলে জেন‑জিরার বিদ্রোহের তীব্রতা কমবে না, বরং আরও বাড়তে পারে। ভবিষ্যতে সমন্বিত নীতি, সামাজিক সংলাপ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কৌশলই এই প্রজন্মের উদ্বেগ দূর করে স্থিতিশীল সমাজ গঠনের মূল চাবিকাঠি হবে।