কোচবাজারের চোরবাগান পূজামণ্ডপে আজ সকালে ৭টা ৩০ মিনিটে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। একটি বড় গাড়ি পূজামণ্ডপের উপর দিয়ে গিয়ে, গাড়ির চাকার নিচে আটকে থাকা নারী ও শিশুকে পদপিষ্ট করে মোট ১৮ জনের মৃত্যু এবং ৩৭ জন আহত হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ও জরুরি সেবা দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। মৃতদেহগুলোকে নিকটবর্তী হাসপাতাল ও শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়। এই দুর্ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
চোরবাগান এলাকা দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও নিরাপত্তাহীনতার জন্য পরিচিত। গত বছরের শেষ দিকে একই স্থানে একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। স্থানীয় পৌরসভার মতে, পূজামণ্ডপে সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা এখনো অপর্যাপ্ত। এই দুর্ঘটনার পূর্বে এলাকায় বহুবার গাড়ি ও সাইকেল দুর্ঘটনার প্রতিবেদন ছিল, যা সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নের জরুরি প্রয়োজনকে তুলে ধরে।
পুলিশের প্রধান গোয়েন্দা শ্রীমতি রিয়া আহমেদ ঘটনাস্থলে এসে বললেন, “আমরা দ্রুত তদন্ত শুরু করেছি এবং দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয়ের জন্য সমস্ত প্রমাণ সংগ্রহ করছি।” মৃতদেহের পরিবারগুলো শোক প্রকাশ করে বলেছে, “আমরা চাই ন্যায়বিচার হোক এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা যেন না ঘটে।” স্থানীয় ধর্মীয় নেতা ও সমাজসেবকরা শোকসন্তুষ্টি জানিয়ে বলেন, “এই ধরনের দুর্ঘটনা আমাদের সমাজের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বলতার প্রতিফলন।”
পৌরসভা ও ট্রাফিক বিভাগ এখনই পূজামণ্ডপে সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গাড়ি চলাচল সীমিত করা, সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন করা হবে। এছাড়াও, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করা হবে। দীর্ঘমেয়াদে সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নের জন্য একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনা আর না ঘটে।