চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এর উপাচার্য ড. মোহাম্মদ রশিদুল হককে প্রায় পনেরো ঘণ্টা ধরে ক্যাম্পাসের প্রবেশদ্বার থেকে বাধা দেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটার পরই শিক্ষার্থী ও কর্মীদের মধ্যে বিস্ময় ও উদ্বেগের স্রোত বয়ে যায়। উপাচার্যকে বাধা দেওয়ার মূল কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীদের দাবি করা হয় যে, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অস্বচ্ছতা ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের প্রতি যথাযথ পদক্ষেপ না নেওয়া। এই ঘটনার ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও শাসনব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়।
এই অবরোধের পেছনে বহু বছর ধরে চলমান শিক্ষার্থী-প্রশাসক সংঘাতের ইতিহাস রয়েছে। গত বছরই শিক্ষার্থীরা একাধিকবার ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্বচ্ছতা, ভর্তি প্রক্রিয়ার ন্যায়পরায়ণতা এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের দাবি তুলে ধরে। তদুপরি, পূর্বে কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশাসনিক সংস্কারের তীব্র ইচ্ছা গড়ে ওঠে। এসব প্রেক্ষাপটে উপাচার্যের পদে থাকা ড. রশিদুল হককে শিক্ষার্থীরা প্রায়শই অপ্রতুল পদক্ষেপের দায়ী হিসেবে দেখেছে, যা আজকের অবরোধের মূল চালিকাশক্তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অবরোধের সময় ড. রশিদুল হক একাধিকবার ক্যাম্পাসে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তবে শিক্ষার্থী নেতারা কঠোরভাবে বিরোধিতা করেন। শিক্ষার্থী ইউনিয়নের সভাপতি আহমেদ সাইফুল হক বলেন, “আমরা উপাচার্যের ন্যায়সঙ্গত পদক্ষেপের প্রত্যাশা করি; তবে বর্তমান অবস্থা আমাদেরকে বাধ্য করেছে এই ধরনের পদক্ষেপ নিতে।” অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক সহকারী ড. সুমাইয়া রানা উল্লেখ করেন, “আমরা শিক্ষার্থীদের উদ্বেগকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করছি এবং সমাধানের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছি।” স্থানীয় মিডিয়া ও সাধারণ জনগণও এই ঘটনাকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করে, যেখানে অধিকাংশের মতামত শিক্ষার্থীদের দাবির পক্ষে।
অবশেষে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গৃহস্থালি ও নিরাপত্তা বিভাগ অবরোধ ভাঙার জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করে এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতা করার চেষ্টা করে। বিশ্ববিদ্যাললিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, উপাচার্যের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তবে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলি যথাযথভাবে বিবেচনা করে নীতি সংশোধনের পরিকল্পনা করা হবে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাসনব্যবস্থা স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, যাতে এমন অবরোধের ঘটনা পুনরায় না ঘটে।