শ্রীমতী রমেশ রায়ের পরিবার জানিয়েছে যে, ৩৫ বছর বয়সী পুত্র রমেশকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মৃতদেহে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা ঘটনাটিকে অদ্ভুত করে তুলেছে। ঘটনাস্থলটি ঢাকা শহরের সুলতানবাড়ি এলাকায় অবস্থিত। পরিবার দাবি করছে যে, পুত্রকে হঠাৎ আক্রমণ করে হত্যা করা হয়েছে এবং আঘাতের চিহ্ন না থাকায় পুলিশকে অবাক করেছে। ঘটনাটি ঘটার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল বন্ধ করে তদন্ত শুরু করে।
রমেশ ছিলেন একটি ছোটখাটো দোকানের মালিক এবং সম্প্রতি তিনি পরিবারের সাথে কিছু আর্থিক সমস্যার কারণে উত্তেজনা অনুভব করছিলেন। পরিবারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পুত্রের সাথে পূর্বে কিছু বিরোধ ছিল, তবে তা সাধারণত কথোপকথনের মাধ্যমে সমাধান হতো। ঘটনাটির আগে রমেশের কোনো হিংস্র প্রবণতা ছিল না এবং তিনি শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন। সুলতানবাড়ি এলাকার বাসিন্দারা জানান যে, ওই দিন সন্ধ্যায় পুত্রের দোকানে কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল, কিন্তু তা বিস্তারিত জানাতে পারছেন না।
পরিবারের সদস্যরা পুলিশের কাছে জোর দিয়ে বলছেন যে, ঘটনাটি সত্যিই হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা। তারা দাবি করছেন যে, মৃতদেহে আঘাতের চিহ্ন না থাকায় পুলিশকে বিভ্রান্ত করেছে। পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহের উপর কোনো আঘাতের চিহ্ন না পাওয়ায় তদন্তে নতুন দিকনির্দেশনা খুঁজছেন। সাক্ষীরা জানান যে, ঘটনাস্থলের কাছাকাছি একটি গাড়ি হঠাৎ থেমে গিয়েছিল এবং কেউ গাড়ি থেকে নেমে পুত্রকে আক্রমণ করেছিল। পরিবারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে যে, এই ধরনের ঘটনা সমাজে হিংসার প্রবণতা বাড়াচ্ছে।
পুলিশ এখন ফরেনসিক টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে এবং মৃতদেহের উপর বিস্তারিত পরীক্ষা চালাচ্ছে। তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছে। এছাড়া, স্থানীয় থানায় একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করে মামলার সমাধান করতে চাচ্ছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং হিংসা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে যে, মামলার সমাধান হলে দ্রুত আদালতে উপস্থাপন করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আইনের আওতায় আনা হবে।