গতকাল জাতীয় মানবাধিকার ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় প্রধানের উদ্যোগে 'অধিকার‑নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ' শিরোনামে একটি বৃহৎ সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, আইন প্রণেতা, মানবাধিকার কর্মী এবং সাধারণ নাগরিক উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশের মূল ঘোষণায় সরকার সকল নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও শারীরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য নতুন নীতি ও আইনি কাঠামো প্রণয়ন করবে বলে প্রতিশ্রুতি জানায়। এই ঘোষণাকে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। সমাবেশটি রাজধানীর জাতীয় সম্মেলন হলের বৃহৎ হলার মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রায় দুই হাজার জন উপস্থিত ছিলেন। সরকার এই উদ্যোগের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা নীতি পুনর্গঠন, মানবাধিকার সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ত্বরিত নিরাপত্তা সেবা প্রদানকে অগ্রাধিকার দেবে।
গত দশকে দেশটি বিভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সম্মুখীন হয়েছে। সীমানা সংঘর্ষ, সন্ত্রাসী হামলা এবং নাগরিক অধিকার হ্রাসের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে আন্তর্জাতিক সংস্থার নজরে এসেছে। বিশেষ করে ২০১৯ থেকে ২০২২ পর্যন্ত মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা গুলোর রিপোর্টে গৃহহিংসা, শ্রমিক অধিকার লঙ্ঘন এবং বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জোরালো পদক্ষেপের অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব সমস্যার সমাধানে পূর্বে কিছু স্বল্পমেয়াদী প্রকল্প চালু করা হলেও কাঠামোগত পরিবর্তনের অভাবের কারণে ফলাফল সীমিত রয়ে গিয়েছে। তাই সরকার নতুন নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান খুঁজতে চায়।
প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি রেহানা আহমেদ সমাবেশে বলেন, “প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ দায়িত্ব। এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।” মানবাধিকার সংস্থা ‘স্বাধীনতা’ এর সভাপতি আবদুল করিম উল্লেখ করেন, “সরকারের এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়, তবে বাস্তবায়ন পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জনসামাজিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা জরুরি।” সাধারণ জনগণের মধ্যে এই ঘোষণার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে; ঢাকা, চট্টগ্রাম এবং গ্রামীণ এলাকায় নাগরিকরা নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার আশায় উৎসাহ প্রকাশ করেছেন। তবে কিছু সমালোচক যুক্তি দেন, নতুন নীতি যদি যথাযথ তদারকি ছাড়া প্রয়োগ করা হয় তবে তা আবার দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার বাড়াতে পারে।
সরকার ইতিমধ্যে অধিকার‑নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ কমিশন গঠন করেছে, যার সদস্যে মন্ত্রিপরিষদ, বিচার বিভাগ, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ এবং সিভিল সোসাইটি প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত। কমিশন আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিস্তারিত নীতি খসড়া প্রস্তুত করে সংসদে উপস্থাপন করবে। পাশাপাশি, স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, নিরাপত্তা সেবা ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য প্রশিক্ষণমূলক কর্মশালা চালু করবে এবং ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অগ্রগতি রিপোর্ট প্রকাশ করবে। ভবিষ্যতে এই নীতির সফল বাস্তবায়ন দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম বাড়াবে, নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষায় একটি মডেল হিসেবে কাজ করবে এবং সামাজিক সমন্বয় ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করবে।