সারাহ কুক, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র সচিব, আজ ঘোষণা করেছেন যে যুক্তরাজ্য রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ৪৬ কোটি পাউন্ড সহায়তা প্রদান করবে। এই সহায়তা মূলত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য ব্যবহৃত হবে। ৪৬ কোটি পাউন্ডের অর্থ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ধাপে ধাপে বিতরণ করা হবে, যা বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জীবনের মানোন্নয়ন এবং স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশে ৭,০০,০০০ এরও বেশি মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। এই শরণার্থীরা মূলত রোহিঙ্গা মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্য, যাদের মিয়ানমারের রোহিঙ্গা রাজ্য থেকে অত্যাচার ও সহিংসতার কারণে পালাতে হয়। বাংলাদেশ সরকার শরণার্থীদের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও খাদ্য সহায়তা প্রদান করছে, তবে সীমিত সম্পদ ও অবকাঠামোর কারণে চাহিদা পূরণে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।
সারাহ কুকের বক্তব্যে তিনি জোর দিয়েছেন যে যুক্তরাজ্য মানবাধিকার ও মানবিক সহায়তায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ফোনে কথা বলে তিনি জানিয়েছেন যে এই সহায়তা শরণার্থীদের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা উন্নয়নে সহায়ক হবে। রোহিঙ্গা শরণার্থী অধিকার সমর্থকরা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে এই সহায়তা শরণার্থীদের জীবনের মানোন্নয়নে সহায়ক হবে।
বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে এই অর্থের ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি বিশেষ সমন্বয় কমিটি গঠন করেছে। কমিটি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও খাদ্য বিভাগে তহবিল বিতরণ করবে এবং শরণার্থী ক্যাম্পে অবকাঠামো উন্নয়ন করবে। ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে শরণার্থীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান অনুসন্ধান করবে, যার মধ্যে শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত।