সৌদি আরবে কর্মরত দুই বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের কপি পেতে ঢাকা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আজ (সোমবার) সাংবাদিকদের সম্মুখে শামা ওবায়েদ স্পষ্টভাবে দাবি জানায়। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রায়ের মূল নথি হাতে পেলে বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে এবং পরিস্থিতি যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। রায়ের কপি চাওয়ার এই পদক্ষেপটি দুই শ্রমিকের আইনি অবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূক্ষ্ম সমন্বয় বজায় রাখার উদ্দেশ্য বহন করে।
সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা লক্ষাধিক, যেখানে অধিকাংশই গৃহস্থালী, নির্মাণ ও সেবা খাতে কর্মরত। অতীতে শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে, বিশেষত অপরাধমূলক অভিযোগে কঠোর শাস্তি আরোপের ক্ষেত্রে। মৃত্যুদণ্ডের রায় বাংলাদেশে বিরল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দু’টি মামলায় এই শাস্তি আরোপিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ পেয়েছে। দু’জন শ্রমিকের মামলাও একই প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে; তাদের অপরাধের প্রকৃতি, প্রমাণের যথার্থতা এবং আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
শামা ওবায়েদ রায়ের কপি চাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন। পরিবারগুলো রায়ের বিশদ জানার জন্য অধিকারিকভাবে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এবং কপিটি পাবার পর যথাযথ আইনি সহায়তা ও আপিলের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করবে বলে তারা আশাবাদ প্রকাশ করেছে। মানবাধিকার সংস্থা ও আইনজীবী গোষ্ঠীও রায়ের ন্যায্যতা, প্রমাণের স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের সাথে সামঞ্জস্যের প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে, সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে দু’দেশের কূটনৈতিক চ্যানেলগুলোতে বিষয়টি গোপনীয়ভাবে আলোচনা চলছে বলে সূত্রপাত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রায়ের কপি প্রাপ্তির পর তা বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট আইনি বিভাগে প্রেরণ করবে এবং প্রয়োজনীয় আপিল প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য প্রাসঙ্গিক পদক্ষেপ নেবে। পাশাপাশি, শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার জন্য দু’দেশের কূটনৈতিক মিটিংয়ে এই ধরনের মামলার পুনরাবৃত্তি রোধে সমন্বিত নীতি প্রণয়নের আহ্বান জানানো হবে। সরকার শ্রমিকদের কনসুলার সেবা শক্তিশালীকরণ, আইনি সহায়তা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য নতুন নির্দেশিকা প্রণয়নের পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যতে এমন রায়ের কপি দ্রুত প্রাপ্তি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য দ্বিপাক্ষিক প্রোটোকল স্থাপন করা হবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।