রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ খালের তীরে বন্যপ্রাণী শিকারের ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে বন বিভাগের টিম। বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে নৌকায় থাকা হরিণের মাংস খালের পানিতে ফেলে দিলেও, তারা নৌকা থেকে হরিণের মাথা, কলিজাসহ বিভিন্ন শিকার সরঞ্জাম উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। এই ঘটনায় একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেলেও, অন্যজনকে আটক করা হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই অপরাধীরা বন্যপ্রাণী শিকারের মাধ্যমে প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং আইন লঙ্ঘন করছে।
ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, স্থানীয় বাসিন্দারা ও বন বিভাগের গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এই খালের তীরে নতুন করে বন্যপ্রাণী শিকারের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বন বিভাগের একটি বিশেষ টিম গোপন তদন্তের মাধ্যমে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করে ঘটনাস্থলে ছোঁড়া দেয়। বনরক্ষীদের আগমনের খবর পেয়ে নৌকায় থাকা ব্যক্তিরা দ্রুত হরিণের মাংস খালের পানিতে ফেলে দেয়, যাতে তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ না পাওয়া যায়। তবে বন বিভাগের কর্মকর্তারা দ্রুত নৌকাটি আটক করে এবং তা থেকে হরিণের মাথা, কলিজা, শিকারের ফাঁদ, বন্দুক ও অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করে।
আটক হওয়া ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন এবং তারা বন্যপ্রাণী শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণী শিকার একটি গুরুতর অপরাধ, যা প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করে এবং জীববৈচিত্র্যের হুমকি তৈরি করে। তারা এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিটির বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিটির সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা চলছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা নিয়মিত তদারকি ও অভিযান চালিয়ে বন্যপ্রাণী শিকারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তারা জনসাধারণকে বন্যপ্রাণী শিকারের বিরুদ্ধে সচেতন হতে এবং এমন কোনো ঘটনার খবর পেলে বন বিভাগকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ রোধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।