প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
আন্তজাতিক

ভারতে জয়শঙ্কর-রুবিও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, গুরুত্ব পেল জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দুজনেই জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়ো
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 20, 2026 প্রিন্ট: 22 Oct 2026, 06:44 AM
ভারতে জয়শঙ্কর-রুবিও দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, গুরুত্ব পেল জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা

মুম্বাইতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর এবং মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দুজনেই জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা জোর দিয়ে বলেছেন। দুজনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মূল বিষয় ছিল বিদ্যুৎ, তেল‑গ্যাস এবং পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিয়োগের সুযোগ সনাক্ত করা, পাশাপাশি সামরিক সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামে সমন্বয় সাধন। বৈঠকের সঙ্গে সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা উন্মোচিত হয়, যেখানে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এই বৈঠকটি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামোতে নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক গত দশকে বহু স্তরে সমৃদ্ধ হয়েছে; ২০১৬ সালে স্বাক্ষরিত পারস্পরিক সুরক্ষা চুক্তি থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে যৌথ গবেষণা পর্যন্ত সহযোগিতা বিস্তৃত হয়েছে। পূর্বে দু’দেশের মধ্যে তেল‑গ্যাস অনুসন্ধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্প এবং পারমাণবিক শক্তি নিরাপত্তা সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে ভারতীয় নৌবাহিনীর আধুনিকীকরণ ও বিমান বাহিনীর মিসাইল সিস্টেমে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি সহায়তা ইতিমধ্যে বহু চুক্তির মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়েছে। ত্রিপক্ষীয় অংশীদারিত্বের আলোচনার পটভূমিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক উপস্থিতি এবং ভারতের পশ্চিমা মহাসাগরীয় কৌশলগত স্বার্থের সমন্বয় রয়েছে, যা অঞ্চলের শক্তি ভারসাম্যকে পুনর্গঠন করার লক্ষ্যে কাজ করে।

বৈঠকে জয়শঙ্কর বলেছিলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আমাদের দু’দেশের কৌশলগত স্বার্থের মূল স্তম্ভ। এই ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক বিশ্বাস ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়ই ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার ভিত্তি।’ রুবিওও একই রকম মত প্রকাশ করে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের উন্নত রকেট প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামকে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য উন্মুক্ত করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন, ত্রিপক্ষীয় কাঠামোতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অংশগ্রহণ উভয় দেশের জন্য বাণিজ্যিক ও নিরাপত্তা দিক থেকে নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই ঘোষণার প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে; বিশেষত জ্বালানি খাতে কর্মরত শ্রমিক ও নিরাপত্তা বিশারদরা এই সহযোগিতাকে দেশের জ্বালানি স্বাবলম্বনতা বৃদ্ধি করার সম্ভাবনা হিসেবে স্বাগত জানিয়েছে।

কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে যৌথ কর্মদল গঠন করে জ্বালানি প্রকল্পের সম্ভাব্য ক্ষেত্র চিহ্নিত করার কাজ শুরু করেছে; প্রথম পর্যায়ে তেল‑গ্যাস অনুসন্ধান, হাইড্রোজেন উৎপাদন এবং পারমাণবিক জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে সমন্বিত গবেষণা চালানো হবে। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে দু’দেশের মধ্যে নতুন সরঞ্জাম ক্রয়‑বিক্রয় চুক্তি, প্রশিক্ষণ শিবির এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য মেমোরেন্ডাম অব অন্ডারস্ট্যান্ডিং স্বাক্ষরিত হয়েছে। ত্রিপক্ষীয় অংশীদারিত্বের কাঠামোতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে একটি উচ্চস্তরের শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে জ্বালানি বিনিয়োগ, সাইবার নিরাপত্তা এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিষয়ক সমন্বয় আলোচনা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র-আমিরাতের ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার লক্ষ্য রাখে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ