প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
জাতীয়

চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে, ৩ বছরে ৫৪ জনের মৃত্যু

গত কয়েক বছরে রাশিয়ায় কাজের সন্ধানে বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পর থেকে এই প্রবণতা বিপর্যস্ত হয়
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 21, 2026 প্রিন্ট: 21 Oct 2026, 05:41 AM
চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে, ৩ বছরে ৫৪ জনের মৃত্যু

গত কয়েক বছরে রাশিয়ায় কাজের সন্ধানে বাংলাদেশি শ্রমিকের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ২০২২ সালে শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের পর থেকে এই প্রবণতা বিপর্যস্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে; যুদ্ধের গণ্ডি অতিক্রম করে শ্রমিকরা সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে। সরকারী তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ৫৪ জন বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, যদিও অধিকাংশ মৃতদেহ পাওয়া যায়নি, ফলে পরিবারগুলো শোকের সঙ্গে সঙ্গে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি। এই ঘটনা দেশের শ্রমিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক শ্রম নীতির পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।

রাশিয়ায় শ্রমিক প্রবাহের মূল কারণ ছিল উচ্চ বেতন ও কর্মসংস্থানের সহজলভ্যতা, যা স্থানীয় নিয়োগ সংস্থা ও মধ্যস্থতাকারীরা প্রচার করত। তবে যুদ্ধের পূর্বে কোনো সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি বিশ্লেষণ না করে ভ্রমণ অনুমোদন দেওয়া হয়, ফলে শ্রমিকরা যুদ্ধক্ষেত্রের নিকটবর্তী এলাকায় কাজ করতে বাধ্য হয়। ইউক্রেনের সীমান্তে গৃহীত কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সামরিক অভিযান ও বোমা হামলার ফলে শ্রমিকদের চলাচল সীমাবদ্ধ হয়ে যায়, এবং কূটনৈতিক চ্যানেল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কনসুলার সহায়তা পাওয়া কঠিন হয়। ফলে বহু শ্রমিক অচেনা ভূখণ্ডে আটকে পড়ে, এবং মৃত্যুর পর দেহ পুনরুদ্ধার ও সনাক্তকরণে বিশাল বাধা সৃষ্টি হয়।

বহু পরিবার এই ঘটনার ফলে গভীর শোক ও ক্রোধ প্রকাশ করেছে; তারা কূটনৈতিক সেবা, নিরাপদ কর্মসংস্থান ও যথাযথ তথ্যের অভাবে হতাশা প্রকাশ করেছে। বিদেশ মন্ত্রণালয় এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, বলেছে যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং মৃতদেহের পুনরুদ্ধার ও পরিবারকে সমর্থন দেওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। শ্রম মন্ত্রণালয়ও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োগ সংস্থার ওপর কঠোর তদারকি আরোপের কথা জানিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা ও সিভিল সোসাইটি গোষ্ঠীও শ্রমিকদের সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক চাপ বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়েছে।

অধিকাংশ কর্তৃপক্ষ এখন কূটনৈতিক চ্যানেল পুনরায় সক্রিয় করে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে সমন্বয় করে মৃতদেহের পুনরুদ্ধার ও শোকসন্তানদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা চালু করেছে। সরকারী দিক থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব বিশ্লেষণ করে, ভবিষ্যতে অনিরাপদ অঞ্চলে শ্রমিক পাঠানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সম্ভাবনা বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, বৈধ ও নিরাপদ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের জন্য নতুন নীতি প্রণয়ন, নিয়োগ সংস্থার লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া কঠোর করা এবং কূটনৈতিক সেবার দ্রুততর প্রদান নিশ্চিত করা হবে। এই পদক্ষেপগুলো শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের আন্তর্জাতিক সুনাম রক্ষার লক্ষ্য রাখে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ