৪৫তম বিসিএস (বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস) পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পরপরই জানা গেল যে, মোট ৫৬ জন প্রার্থীর নাম যাচাই পর্যায়ে বাদ পড়েছে। এদের মধ্যে অন্তত নয়জন সনাতন ধর্মাবলম্বী, যারা দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণে তৎপর ছিলেন, এখন ‘মুখ দেখাতে পারছি না’ বলে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছেন। এই বাদ পড়া প্রার্থীরা শুধু ব্যক্তিগত দুঃখই নয়, দেশের মানবসম্পদ গঠনে একটি বড় ফাঁক তৈরি করেছে, যা সমাজের ন্যায়বিচার ও সমতার প্রশ্ন উত্থাপন করে।
বিসিএস পরীক্ষার প্রক্রিয়া সাধারণত লিখিত, মৌখিক ও শারীরিক যাচাই তিনটি ধাপে সম্পন্ন হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যাচাই পর্যায়ে প্রার্থীদের বাদ দেওয়ার পদ্ধতি নিয়ে নানা বিতর্ক দেখা গেছে। বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে অতীতের কিছু ঘটনা স্মরণীয়, যেখানে নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রার্থীদের অযৌক্তিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। এইবারের বাদ পড়া তালিকায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্তর্ভুক্তি আবারও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, কারণ তাদের বাদ দেওয়ার কারণ স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বাকী প্রার্থীদের পরিবার ও সমাজের নেতারা এই সিদ্ধান্তকে ‘অনিয়মিত’ ও ‘অন্যায়’ বলে সমালোচনা করেছেন। বহু পরিবার জানিয়েছে যে, তাদের সন্তান বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পর এই পর্যায়ে অপ্রত্যাশিতভাবে বাদ পড়ে গৃহস্থালীর আর্থিক ও মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থা এবং কিছু বিশিষ্ট বিশ্লেষকও বলছেন, এই ধরনের বাদ দেওয়া প্রার্থীদের পুনর্বিবেচনা না করা হলে দেশের সিভিল সার্ভিসে ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার ক্ষতি হবে। তারা দাবি করছেন যে, প্রার্থীদের অধিকার রক্ষার জন্য স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও আপিলের সুযোগ নিশ্চিত করা উচিত।
সরকারি পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা না দিয়ে, সংশ্লিষ্ট বিভাগে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোপনীয়তা রক্ষা করে, বাদ পড়া প্রার্থীদের আপিলের সুযোগ প্রদান এবং পুনরায় যাচাই প্রক্রিয়া চালু করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম এড়াতে প্রার্থীদের তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতি আধুনিকায়ন, স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের ব্যবহার এবং ত্রুটিমুক্ত রেকর্ড রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয়, তবে দেশের সিভিল সার্ভিসে ন্যায়বিচার ও সমতার ভিত্তি পুনর্স্থাপিত হবে।