প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
তথ্য প্রযুক্তি

আকাশে আলোকোজ্জ্বল উল্কাবৃষ্টি: ২১-২২ অক্টোবর রাতের দৃশ্যতত্ত্ব

২১ ও ২২ অক্টোবর রাতের আকাশে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এক অনন্য মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পাবেন দর্শকরা। এই দুই দিনের রাতের দিকে হ্যালির ধূ
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 21, 2026 প্রিন্ট: 22 Oct 2026, 12:54 PM
আকাশে আলোকোজ্জ্বল উল্কাবৃষ্টি: ২১-২২ অক্টোবর রাতের দৃশ্যতত্ত্ব

২১ ও ২২ অক্টোবর রাতের আকাশে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এক অনন্য মহাজাগতিক দৃশ্যের সাক্ষী হওয়ার সুযোগ পাবেন দর্শকরা। এই দুই দিনের রাতের দিকে হ্যালির ধূমকেতুর ফেলে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর পথচলার ফলে সৃষ্টি হতে যাওয়া উল্কাবৃষ্টির চরম বা পিক সময়। আকাশবিজ্ঞানীদের অনুমান অনুযায়ী, এই সময়কালে আকাশে আলোকোজ্জ্বল উল্কাবৃষ্টির দৃশ্য দেখা যাবে, যা দর্শকদের জন্য একটি অমোঘ অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করবে। শহরের আলোকদূষণ কম এলাকাগুলোতে এই দৃশ্যটি আরও স্পষ্ট ও আকর্ষণীয়ভাবে উপভোগ করা সম্ভব হবে।

উল্কাবৃষ্টির এই ঘটনার পেছনে রয়েছে মহাবিশ্বের প্রাচীন ইতিহাসের একটি গভীর রহস্য। হ্যালির ধূমকেতু, যা প্রতি ৭৬ বছর অন্তর পৃথিবীর নিকটবর্তী এলাকা দিয়ে পুনরায় প্রবেশ করে, তার পথের ধারে ধারে অসংখ্য মাইক্রোমেটেরোইড বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পাথর ও ধূলিকণা ছড়িয়ে পড়ে থাকে। যখন পৃথিবী তার কক্ষপথে এই ধূলিকণাভরা প্রাচীরের মধ্য দিয়ে চলে, তখন মহাশূন্যের বিশাল গতিতে এই কণাগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে। বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণে এই কণাগুলো দ্রুত জ্বলে ওঠে এবং আকাশে আলোকোজ্জ্বল রেখা বা উল্কার সৃষ্টি করে। এই প্রক্রিয়াটিই বিজ্ঞানীরা উল্কাবৃষ্টি হিসেবে চিহ্নিত করেন।

এই মহাজাগতিক দৃশ্যের প্রতীক্ষায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের আকাশবিজ্ঞানী, ছাত্র-ছাত্রী এবং সাধারণ মানুষ উৎসুক হয়ে উঠেছেন। আকাশবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই উল্কাবৃষ্টি দেখতে চাইলে চাঁদের আলো কম থাকার সময় বা রাতের গভীরে আকাশ পর্যবেক্ষণ করা উচিত। শহুরে অঞ্চলে আলোকদূষণের কারণে দৃশ্যটি কিছুটা অস্পষ্ট হতে পারে, তবে গ্রামীণ এলাকা বা পাহাড়ি অঞ্চলে আকাশের পরিষ্কার দৃশ্যে উল্কাবৃষ্টির সৌন্দর্য পূর্ণরূপে উপভোগ করা যাবে। দর্শকদের মধ্যে অনেকেই এই ঘটনাকে একটি সাংস্কৃতিক ও বৈজ্ঞানিক উৎসব হিসেবে গণ্য করছেন এবং পরিবারসহ আকাশ পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা করছেন।

কর্তৃপক্ষ ও বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানগুলো এই বিশেষ দৃশ্যের দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে দর্শকদের জন্য নিরাপত্তা ও সচেতনতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আকাশবিজ্ঞানীরা পরামর্শ দিয়েছেন, দীর্ঘ সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকলে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য সতর্ক থাকতে হবে এবং উপযুক্ত দূরবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করা উচিত। ভবিষ্যতে এই ধরনের মহাজাগতিক ঘটনাগুলো নিয়ে আরও গবেষণা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে তরুণ প্রজন্ম মহাবিশ্বের রহস্যের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠে। এই উল্কাবৃষ্টি কেবল একটি দৃশ্যতাত্ত্বিক আনন্দ নয়, বরং এটি আমাদের মহাবিশ্বের বিশালতা ও জটিলতা সম্পর্কে নতুন করে চিন্তাভাবনার সুযোগ প্রদান করছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ