গত রাত ২২শে অক্টোবর, ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কের গাজীপুর-সিরাজগঞ্জ সেকশনে বেপরোয়া গতিতে চলমান একটি বাস এবং পিকআপ গাড়ির মধ্যে সংঘর্ষ ঘটায়। সংঘর্ষের ফলে বাসের চালক ও পিকআপের যাত্রীসহ দুজনের প্রাণহানি হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত জরুরি সেবা দল দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে, তবে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং পরবর্তীতে মৃত্যু নিশ্চিত হয়। স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, দুর্ঘটনা রাতের প্রায় একটায় ঘটেছে, যখন রাস্তার দৃশ্যমানতা কম ছিল এবং ট্রাফিকের চাপ তুলনামূলকভাবে কম ছিল। এই সময়ে সড়কের উপর কোনো গতি সীমা চিহ্নিত না থাকায় চালকের অযৌক্তিক গতি নিয়ন্ত্রণের অভাব স্পষ্ট হয়েছে। দুর্ঘটনা স্থানটি পূর্বে একই রকম গতি লঙ্ঘনের কারণে কয়েকটি ছোটখাটো দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছে।
গাজীপুর-সিরাজগঞ্জ সেকশনটি দেশের প্রধান বাণিজ্যিক রুটের অংশ, যেখানে দৈনিক লক্ষাধিক টন পণ্য ও যাত্রী চলাচল করে। তবে গত কয়েক মাসে এই রুটে গতি সীমা অমান্য করে চালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। রাস্তায় পর্যাপ্ত গতি নিয়ন্ত্রণ ক্যামেরা ও রাডার স্থাপন না থাকায় চালকদের অযৌক্তিক গতি বজায় রাখা সহজ হয়েছে। এছাড়া, রাস্তায় পিচ্ছিলতা ও গর্তের সমস্যাও সময়মতো মেরামত না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে। স্থানীয় পরিবহন মন্ত্রণালয়ের পূর্ববর্তী প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই রুটে গত এক বছরে মোট ছয়টি গুরুতর সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে তিনটি প্রাণহানির সঙ্গে সমাপ্ত হয়েছে।
মো. সেলিম মিয়া প্রথম আলোকে জানান, “মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়ে ওই দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বাসটি খুব দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে চালানো হচ্ছিল।” পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাস্থলে গতি মাপার কোনো যন্ত্র উপস্থিত না থাকায় গতি নির্ধারণ করা কঠিন, তবে প্রাথমিক তদন্তে চালকের গতি অনুমানিক ৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাস চালক ও পিকআপের যাত্রীদের মধ্যে একাধিক সাক্ষী ঘটনার মুহূর্তে গাড়িগুলোর গতি ও অপ্রয়োজনীয় লেন পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন। জনসাধারণের মধ্যে এই ধরনের দুর্ঘটনা নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে; সামাজিক মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক নীতি ও গতি সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি বাড়ছে।
স্থানীয় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (FIR) দাখিল করে এবং চালকের বিরুদ্ধে গতি লঙ্ঘন, অযৌক্তিক চালনা এবং অপ্রয়োজনীয় লেন পরিবর্তনের অভিযোগে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি জানায়। রাস্তায় গতি নিয়ন্ত্রণ ক্যামেরা স্থাপনের জন্য রাস্তায় পরিবহন মন্ত্রণালয়কে জরুরি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, রাস্তায় গর্তমুক্তি ও পিচ্ছিলতা কমাতে জরুরি মেরামত কাজের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। সরকারী পর্যায়ে সড়ক নিরাপত্তা সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে চালকদের গতি সীমা মেনে চলার গুরুত্ব সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পায়। ভবিষ্যতে একই রকম দুর্ঘটনা রোধে কঠোর শাস্তি ও নিয়মিত গতি পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।