ঢাকা শহরের উত্তর‑দক্ষিণ অংশে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ১৩২টি সরকারি প্লটের বরাদ্দের লটারি আট মাসের বেশি সময় ধরে স্থগিত রয়েছে। এই দীর্ঘ বিলম্বের পর, নগর পরিকল্পনা অধিদপ্তর আজ নতুন আবেদন গ্রহণের উদ্যোগ ঘোষণা করেছে। অধিদপ্তরের মুখপাত্রের মতে, পূর্বে জমা দেওয়া ৬৯৬ জন আবেদনকারীর মধ্যে যথাযথ লটারি না হওয়ায় বহু পরিবার তাদের বাসস্থানের স্বপ্নে বাধা অনুভব করেছে। লটারি না হওয়ায় জমি বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি পেয়ে স্বল্পমূল্যের বিক্রয় ও অবৈধ দখলদারির ঝুঁকি বেড়ে গেছে। তাই, নতুন আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে সমান সুযোগ নিশ্চিত করে দ্রুত বরাদ্দ সম্পন্ন করা সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্লট বরাদ্দের প্রক্রিয়া ২০২২ সালের শেষের দিকে শুরু হয়, যখন সরকার নগর দখলদারী রোধে এবং নিম্ন‑আয়ের পরিবারকে সাশ্রয়ী বাসস্থান প্রদান করতে ১৩২টি প্লট নির্ধারণ করে। তবে, লটারি আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি অনুমোদন, ভূমি শিরোনাম পরিষ্কারকরণ এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য তৃতীয় পক্ষের তদারকি ব্যবস্থা গঠনের কাজ দেরি হওয়ায় প্রক্রিয়া আটকে যায়। অতিরিক্তভাবে, আবেদনকারীর তথ্য যাচাই, আর্থিক যোগ্যতা নির্ধারণ এবং প্লটের সঠিক মানচিত্র প্রস্তুতিতে প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। এসব জটিলতা একত্রে লটারি স্থগিতের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা নাগরিকদের মধ্যে অসন্তোষের সঞ্চার ঘটিয়েছে।
অধিদপ্তরের প্রধান প্রকল্প কর্মকর্তা শ্রীমতি রেহানা বেগমের মতে, নতুন আবেদন গ্রহণের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৪৫০টি প্লটের তালিকা প্রস্তুত করা হবে এবং পূর্বের আবেদনকারীদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অন্যদিকে, আবেদনকারী সমিতির সভাপতি মো. রশিদুল ইসলাম জানান, “আট মাসের অপ্রত্যাশিত বিলম্ব আমাদের পরিবারকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে; এখন নতুন আবেদন গ্রহণের সিদ্ধান্তে আমরা স্বস্তি বোধ করছি, তবে দ্রুত লটারি সম্পন্ন করা জরুরি।” সামাজিক সংস্থা ‘শহর উন্নয়ন ফোরাম’ও উল্লেখ করেছে, লটারি না হওয়া পর্যন্ত অবৈধ দখলদারির ঝুঁকি বৃদ্ধি পায় এবং শহরের পরিকল্পনা ব্যাহত হয়। এইসব মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জনমত স্পষ্টভাবে দ্রুত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার দাবি করছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, নতুন আবেদন গ্রহণের শেষ তারিখ আগামী মাসের ১৫ তারিখ নির্ধারিত হয়েছে এবং তা পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে লটারি সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তদুপরি, নগর পরিকল্পনা অধিদপ্তর আইটি বিভাগকে অনলাইন আবেদন পোর্টাল চালু করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে আবেদন প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় ও ত্রুটিমুক্ত হয়। ভবিষ্যতে, একই ধরনের দেরি রোধে ত্রৈমাসিক তদারকি কমিটি গঠন করা হবে এবং লটারি ফলাফল প্রকাশের জন্য স্বতন্ত্র তৃতীয় পক্ষের অডিট করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার প্লট বরাদ্দের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, অবৈধ দখলদারির প্রতিরোধ এবং নাগরিকের বাসস্থান নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়।