প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
জাতীয়

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ধরা হচ্ছে ইলিশ, সরকারি সহায়তা পাননি কোনো জেলে

সন্দ্বীপের কয়েকটি ঘাটে সাম্প্রতিক সময়ে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠে এসেছে। মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক তৎক্ষণাৎ অভিযান চালানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট শিকারে
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 23, 2026 প্রিন্ট: 23 Oct 2026, 02:08 PM
নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ধরা হচ্ছে ইলিশ, সরকারি সহায়তা পাননি কোনো জেলে

সন্দ্বীপের কয়েকটি ঘাটে সাম্প্রতিক সময়ে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইলিশ শিকারের অভিযোগ উঠে এসেছে। মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক তৎক্ষণাৎ অভিযান চালানো সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট শিকারের দলকে গ্রেফতার করতে ব্যর্থ হয়েছে। স্থানীয় মিডিয়া সূত্রে জানা যায়, গত সপ্তাহের শেষের দিকে দু’টি ঘাটে ইলিশের জাল ফেলা ও বিক্রির দৃশ্য ধরা পড়ে, তবে অভিযানের সময় শিকারের দল দ্রুত সরে গিয়ে কোনো ধরা না পড়ে। এই ঘটনাটি দেশের ইলিশ সংরক্ষণ নীতির কঠোরতা ও বাস্তবায়নের প্রশ্ন তুলেছে, এবং জনসাধারণের মধ্যে বিস্তৃত উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

ইলিশের মৌসুমে সরকার কর্তৃক আর্থিক ও পরিবেশগত কারণ বিবেচনা করে ২০২৩ সালের শুরুর দিকে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার মূল উদ্দেশ্য ছিল অতিরিক্ত শিকারের ফলে প্রজাতির হ্রাস রোধ করা এবং প্রজনন মৌসুমে মাছের স্বাভাবিক পুনরুৎপাদন নিশ্চিত করা। তবে পূর্বে একই ধরনের লঙ্ঘন ঘটেছে, বিশেষ করে নদী ও সমুদ্রের প্রবেশদ্বারে অবৈধ শিকারের জাল ব্যবহার করে ধরা পড়া শিকারের সংখ্যা বাড়তে থাকে। মৎস্য বিভাগে জানানো হয়েছে, এই ধরনের লঙ্ঘন শুধুমাত্র প্রজাতির ক্ষতি নয়, স্থানীয় অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করে, কারণ ইলিশের মূল্যবৃদ্ধি ও বাজারের অস্থিরতা সরাসরি মৎস্যজীবী ও ভোক্তাদের ওপর প্রভাব ফেলে।

মৎস্য অধিদপ্তরের প্রধান, মো. রশিদুল ইসলাম, এই ঘটনার ওপর কঠোর নিন্দা প্রকাশ করে বলেন, “নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনকারী শিকারের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা থাকবে না; দ্রুত তদন্ত চালিয়ে অপরাধীদের আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” স্থানীয় মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি, শ্রীমতি রেকা বেগম, উল্লেখ করেন, “অনেকজনের জীবিকায় ইলিশের বিক্রয় নির্ভরশীল, তবে নিষেধাজ্ঞা মানতে না পারলে দীর্ঘমেয়াদে আমাদের ক্ষতি হবে।” পরিবেশ সংস্থা ‘গ্রিন বাংলাদেশ’ এর প্রতিনিধি, শ্রী অমিত চক্রবর্তী, যুক্তি দেন, “ইলিশের প্রজনন মৌসুমে শিকারের অব্যাহত লঙ্ঘন প্রজাতির ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলবে; সরকারকে তৎক্ষণাৎ কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।” জনসাধারণের মধ্যে সামাজিক মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা চলছে, যেখানে অধিকাংশ মানুষ শিকারের উপর কঠোর শাস্তি ও পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন।

অধিদপ্তর ইতিমধ্যে সন্দ্বীপের চারপাশে অতিরিক্ত নৌকা ও ড্রোন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন করেছে এবং স্থানীয় পুলিশ ও গার্ডের সঙ্গে সমন্বয় বাড়িয়ে চলেছে। ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের জন্য বিশেষ আইনি বিধান প্রণয়ন, শিকারের জাল ধরার জন্য স্বয়ংক্রিয় সনাক্তকরণ প্রযুক্তি ব্যবহার এবং শিকারের জাল ফেলা এলাকায় কঠোর নৌকা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া, মৎস্যজীবী ও স্থানীয় সম্প্রদায়কে সচেতনতা কর্মসূচির মাধ্যমে ইলিশ সংরক্ষণে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হবে। সরকার জোর দিয়ে বলেছে, “নিষেধাজ্ঞা মানা না হলে কোনো জেলে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে না; শিকারের আইনি দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগ করা হবে।” এই পদক্ষেপগুলো শেষ পর্যন্ত ইলিশের স্বাভাবিক পুনরুৎপাদন নিশ্চিত করতে এবং দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ