প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
আন্তজাতিক

নিজের পা কাটি ড্রোনে উড়ে ফিরলেন ইউক্রেনীয় সেনা, আট মাসের অবরোধ ভেঙে নিরাপদে পৌঁছান

ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধক্ষেত্রে একটি অস্বাভাবিক এবং বীরত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। প্রায় আট মাস ধরে শত্রুপক্ষের ঘনঘন নজরদারি ও বোমাবর্ষণের আশঙ্কায় একটি
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 24, 2026 প্রিন্ট: 24 Oct 2026, 03:45 AM
নিজের পা কাটি ড্রোনে উড়ে ফিরলেন ইউক্রেনীয় সেনা, আট মাসের অবরোধ ভেঙে নিরাপদে পৌঁছান

ইউক্রেনের চলমান যুদ্ধক্ষেত্রে একটি অস্বাভাবিক এবং বীরত্বপূর্ণ ঘটনার সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। প্রায় আট মাস ধরে শত্রুপক্ষের ঘনঘন নজরদারি ও বোমাবর্ষণের আশঙ্কায় একটি বয়লারের গর্তে লুকিয়ে থাকতে বাধ্য হওয়া একজন ইউক্রেনীয় সেনা শেষ পর্যন্ত নিজেরই পা কেটে ফেলেছেন। এরপর তিনি ছয় পাখার একটি বিশাল ড্রোনের সাহায্যে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নিরাপদ আশ্রয়ে উড়ে যান। এই ঘটনাটি যুদ্ধের কঠোরতা এবং সৈন্যদের বেঁচে থাকার জন্য যেসব অসম্ভব পদক্ষেপ নেওয়া হয় তার একটি জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে ইতিহাসে স্থান পাবে।

ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের অবরোধের কঠোর পরিস্থিতি। জানা যায়, এই সেনা কর্মকর্তা শত্রুপক্ষের তীব্র হামলার মুখে আত্মগোপন করতে বাধ্য হয়েছিলেন। সাধারণ যুদ্ধক্ষেত্রের চেয়েও বেশি বিপজ্জনক এই অবস্থায় তিনি কোনো রকমে যোগাযোগ বা সরাসরি সাহায্য পাননি। আট মাসের এই দীর্ঘ সময়কালে তিনি খাদ্য, পানি এবং চিকিৎসার অভাবে ভোগান্তিতে পড়লেও বেঁচে থাকার ইচ্ছাশক্তি তাকে টিকিয়ে রাখে। শেষ পর্যন্ত শত্রুপক্ষের নজরদারি এড়াতে এবং নিজেদের অবস্থান প্রকাশ না করে সরে যাওয়ার একমাত্র উপায় হিসেবে তিনি ড্রোন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন, যা প্রাথমিকভাবে যুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও এই ক্ষেত্রে উদ্ধারের মাধ্যম হিসেবে কাজ করে।

সংবাদটি প্রকাশের পর সামরিক বিশেষজ্ঞরা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন, এটি কেবল একটি ব্যক্তিগত সাহসিকতার গল্প নয়, বরং আধুনিক যুদ্ধে প্রযুক্তির যেভাবে জীবন রক্ষাকারী ভূমিকা পালন করতে পারে তার প্রমাণ। সেনা কর্মকর্তার এই অসাধারণ সাহসিকতা দেশের মানুষের মধ্যে গর্বের অনুভূতি জাগিয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের এই কঠোর পরিস্থিতিতে সৈন্যদের মানসিক ও শারীরিক চাপের বিষয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও নজরদারি বাড়িয়েছে। জনগণের মধ্যে এই ঘটনাটি যুদ্ধের মানবিক মূল্যায়ন এবং সৈন্যদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার পরপরই সেনা কর্মকর্তাকে নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা প্রদানের ব্যবস্থা করেছেন। সামরিক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই সৈন্যের সাহসিকতা ও বুদ্ধিমত্তা প্রশংসনীয় এবং তাকে উচ্চতর সম্মাননা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন প্রযুক্তির এমন বহুমুখী ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা চালাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচিত হচ্ছে, যেখানে বিভিন্ন দেশের সামরিক বিশ্লেষকরা এই পদ্ধতির কার্যকারিতা ও ঝুঁকি নিয়ে মতামত প্রকাশ করছেন। এটি প্রমাণ করে যে, প্রযুক্তি ও মানবিক সাহসিকতার সমন্বয়ে অসম্ভবকে সম্ভব করা সম্ভব।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ