গত সপ্তাহে দেশের শীর্ষস্থানীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত এক পরীক্ষায় দেখা যায়, শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচের তাপমাত্রায়ও পানি তরল অবস্থায় রইতে পারে। গবেষকরা বিশেষভাবে প্রস্তুত করা শীতল পরিবেশে ‑১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পানির নমুনা রাখে এবং তা কোনো তাত্ক্ষণিক জমাট বাঁধা না দেখায়। এই ফলাফল বিজ্ঞান জগতে তাত্ক্ষণিক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, কারণ প্রচলিত তত্ত্বে ০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে পানি অবশ্যই জমে যায় বলে ধরা হয়। গবেষণার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শীতল আবহাওয়ায় পানির আচরণ বিশ্লেষণ করা, যা কৃষি, পরিবহন ও স্বাস্থ্যসেবা সহ বহু ক্ষেত্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
পানির অস্বাভাবিক গুণাবলি বহু বছর ধরে বিজ্ঞানীদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু। শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে পানির ঘনত্ব সর্বোচ্চ হয়, ফলে তাপমাত্রা কমলে তা দ্রুত জমাট বাঁধে। তবে পূর্বে কিছু গবেষণায় ‘সুপারকুলড’ পানির ধারণা উঠে এসেছে, যেখানে পানিকে শূন্যের নিচের তাপমাত্রায়ও তরল রাখা সম্ভব হয়, যদি তা কোনো অশুদ্ধি বা ন্যানো‑কণার সংস্পর্শে না আসে। এই নতুন গবেষণায় ব্যবহৃত পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত শুদ্ধ পানিকে অতি পরিষ্কার কন্টেইনারে সংরক্ষণ করা এবং ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমানো, ফলে অণুগুলোর গঠনগত পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা। পূর্বের গবেষণার তুলনায় এই পরীক্ষায় তাপমাত্রা কমানোর হার ও পরিবেশের শুদ্ধতা অধিকতর নিয়ন্ত্রিত ছিল, যা ফলাফলকে আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলেছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান বিজ্ঞানী ড. রমেশ চৌধুরী পরীক্ষার ফলাফল সম্পর্কে বলেন, “পানির সুপারকুলড অবস্থা দীর্ঘদিনের তত্ত্বগত অনুমানকে বাস্তবিক প্রমাণে রূপান্তরিত করেছে। এটি আমাদেরকে শীতল পরিবেশে পানির ব্যবহারিক দিকগুলো পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করবে।” তদুপরি, কৃষি গবেষক শ্রীমতি সুমিতা দাশগুপ্ত উল্লেখ করেন, “শীতকালে কৃষি সেচে পানির জমাট বাঁধা একটি বড় সমস্যা, এই নতুন জ্ঞান আমাদেরকে সেচ ব্যবস্থা উন্নত করতে সহায়তা করবে।” সাধারণ জনগণের মধ্যেও এই ফলাফল নিয়ে উচ্ছ্বাস দেখা যায়; সামাজিক মাধ্যমে বহু ব্যবহারকারী শীতের দিনে পানির জমাট না বাঁধার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন এবং ভবিষ্যতে ঠাণ্ডা পানির সরবরাহে নতুন পদ্ধতির প্রত্যাশা প্রকাশ করছেন।
গবেষণা দল এখন এই ফলাফলকে ভিত্তি করে বৃহত্তর স্কেলে পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করেছে, যাতে শীতল অঞ্চলের জল সরবরাহ, রেফ্রিজারেশন ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহারিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা যায়। সরকারও এই ধরনের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে সমর্থন জানিয়ে গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পে প্রযুক্তি স্থানান্তরের জন্য নীতি প্রণয়ন করার ইঙ্গিত দিয়েছে। ভবিষ্যতে যদি পানিকে শূন্যের নিচের তাপমাত্রায়ও তরল রাখা সম্ভব হয়, তবে শীতল পরিবেশে সঞ্চিত পানি রিজার্ভার, হিমবাহ গলন নিয়ন্ত্রণ এবং এমনকি মহাকাশে তরল পদার্থের সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।