ঢাকা শহরের একটি ব্যবসায়িক এলাকায় গত সপ্তাহে এক ব্যবসায়ীকে ১০ লাখ টাকার চাঁদা দাবি করে অপরাধী গোষ্ঠী আক্রমণ করে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী, যিনি স্থানীয় বাজারে গাড়ি বিক্রয় ব্যবসা পরিচালনা করেন, অপরাধীদের হুমকি থেকে রক্ষা পেতে সঙ্গে রাখা ৭০ হাজার টাকা প্রদান করেন। তবে হুমকি অব্যাহত থাকায় তিনি স্থানীয় পুলিশকে জানায়, ফলে অপরাধী ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনার তাৎক্ষণিক গুরুত্ব হল, শহরের ব্যবসায়িক পরিবেশে নিরাপত্তা হুমকি বাড়ছে এবং চাঁদা দাবির মাধ্যমে ব্যবসা বন্ধ হয়ে ক্ষতি হচ্ছে।
অপরাধী গোষ্ঠীর এই ধরনের চাঁদা দাবির পদ্ধতি সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেড়ে চলেছে। বিশেষত ঢাকা ও চট্টগ্রামের কিছু ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকায় ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে হুমকি, জবরদস্তি এবং নগদ অর্থের চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই গোষ্ঠী প্রায়ই ভুক্তভোগীর গোপনীয়তা ও সম্পদ রক্ষার জন্য অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের দাবি করে, যা প্রায়ই ১ লাখ থেকে ১৫ লাখ টাকার মধ্যে থাকে। পূর্বে একই পদ্ধতিতে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে শিকার করা হয়েছে, তবে যথাযথ তদন্তের অভাবে অপরাধীরা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পেরেছে।
গ্রেপ্তারকৃত ছয়জন অপরাধীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে পুলিশ স্পোকসপার্সন জানিয়েছেন, “অপরাধী গোষ্ঠীর এই চাঁদা দাবির পদ্ধতি কঠোরভাবে দমন করা হবে; অপরাধের শিকারদের সুরক্ষার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।” ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীও তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বলেন, “আমি ভয় পেয়ে টাকা দিলাম, তবে এখন আইনসভার সহায়তায় ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় আছি।” স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতি এই ঘটনার ওপর উদ্বেগ প্রকাশ করে, তারা দাবি করে যে, নিরাপদ ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত না হলে বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে।
অধিক তদন্তের জন্য ঢাকা Metropolitan Police Crime Branch বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে এবং অপরাধী গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের সন্ধানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। আইন অনুযায়ী, চাঁদা দাবি ও জবরদস্তি অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং জরিমানা আরোপ করা হয়। ভবিষ্যতে, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে ব্যবসায়িক এলাকায় নজরদারি বাড়াবে, জরুরি হটলাইন চালু করবে এবং ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ প্রদান করবে। এই পদক্ষেপগুলো চাঁদা দাবির পুনরাবৃত্তি রোধে এবং ব্যবসায়িক পরিবেশের স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।