প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
জাতীয়

শরিয়া আইনে ‘তাজির’ কী, তাজিরে কি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়

সৌদি আরবের একটি উচ্চ আদালত সম্প্রতি দু’জন বাংলাদেশী নাগরিককে ‘তাজির’ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে দোষী সাব্যস্ত করেছে। সংশ্লিষ্ট মামলাটি রিয়াদে অনুষ্ঠিত
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 25, 2026 প্রিন্ট: 26 Oct 2026, 01:03 AM
শরিয়া আইনে ‘তাজির’ কী, তাজিরে কি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়

সৌদি আরবের একটি উচ্চ আদালত সম্প্রতি দু’জন বাংলাদেশী নাগরিককে ‘তাজির’ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করে দোষী সাব্যস্ত করেছে। সংশ্লিষ্ট মামলাটি রিয়াদে অনুষ্ঠিত হয় এবং দুইজনকে আরবের কোরানিক নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে যে অভিযুক্তরা শারীরিক ক্ষতি ও হিংসাত্মক আচরণে লিপ্ত ছিলেন, ফলে শারিয়া আইনের অধীনে ‘তাজির’ শাস্তি আরোপ করা হয়েছে। এই রায়ের প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়, বিশেষ করে ‘তাজির’ শাস্তির অধীনে মৃত্যুদণ্ডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

শরিয়া আইনে শাস্তি তিনটি ভাগে বিভক্ত: হাদিস, কিদা এবং তাজির। হাদিস ও কিদা শাস্তি ধর্মীয় গ্রন্থে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত, যেখানে তাজির হল বিচারকের বিবেচনায় নির্ধারিত শাস্তি, যা অপরাধের প্রকৃতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়। তাজিরের অধীনে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা ঐতিহ্যগতভাবে বিরল, তবে কিছু দেশে কঠোর অপরাধের ক্ষেত্রে তা প্রয়োগ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে পূর্বে বহু শ্রমিকের কনসুলার সমস্যার উদাহরণ রয়েছে, তবে তাজিরের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রথমবারের মতো প্রকাশ পায়, যা দু'দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রায়ের পর তৎক্ষণাৎ একটি বিবৃতি প্রকাশ করে, যেখানে বলা হয়েছে যে সংশ্লিষ্ট নাগরিকদের কনসুলার সহায়তা প্রদান করা হবে এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রায়ের বৈধতা যাচাই করা হবে। অভিযুক্তদের পরিবার ও মানবাধিকার সংস্থা রায়কে ‘অমানবিক’ ও ‘অবৈধ’ বলে সমালোচনা করে, এবং তাজিরের অধীনে মৃত্যুদণ্ডের ব্যবহার আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের বিরোধী বলে দাবি করে। দেশের সাধারণ জনগণও সামাজিক মাধ্যমে বিস্তৃত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে অধিকাংশেই কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে রায়ের পুনর্বিবেচনা প্রত্যাশা করছেন।

প্রতিক্রিয়ায় সরকার তৎক্ষণাৎ সৌদি কূটনীতিকদের সঙ্গে সমন্বয় করে কনসুলার সুরক্ষা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং রায়ের পুনর্বিবেচনা বা হ্রাসের জন্য আবেদন করার পরিকল্পনা জানিয়েছে। পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট মামলায় আন্তর্জাতিক আইনি বিশেষজ্ঞদের মতামত সংগ্রহ করে বাংলাদেশের কূটনৈতিক নীতি শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তাজিরের অধীনে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের প্রভাব বিবেচনা করে, সরকার শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কনসুলার সেবা উন্নত করার জন্য দ্বিপাক্ষিক চুক্তি পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এ ধরনের পদক্ষেপ দু'দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল রাখতে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সহায়ক হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ