ব্রাজিলের ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা নাটকীয়ভাবে পুনরায় বিজয়ী হয়েছেন। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা হওয়ায় লুলা ৫০.১ শতাংশ ভোট পেয়ে তার প্রধান প্রতিপক্ষের তুলনায় প্রায় দশ শতাংশের বেশি পার্থক্য বজায় রেখেছেন। এই বিজয়টি দেশের রাজনৈতিক মঞ্চে হঠাৎ পরিবর্তন আনতে পারে, বিশেষ করে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত নীতি ক্ষেত্রে। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে, লুলার পুনরায় ক্ষমতায় আসা বিশ্বব্যাপী বামপন্থী শাসনব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচিত হতে পারে।
লুলা দা সিলভা ২০০৩ থেকে ২০১০ পর্যন্ত দু'বার ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, তবে ২০১৮ সালে দুর্নীতি ও অর্থায়ন সংক্রান্ত অভিযোগে জেলভুক্ত হন এবং পরে দণ্ডমুক্তি পান। ২০২২ সালে তিনি পুনরায় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জয়লাভ করেন, তবে তার দ্বিতীয় মেয়াদে অর্থনৈতিক মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের নির্বাচনে তার পুনরায় প্রার্থীতা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। দেশের উচ্চ বেকারত্ব, কৃষি সংকট এবং পরিবেশগত চ্যালেঞ্জের মুখে লুলা তার পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতা ও বামপন্থী নীতি ব্যবহার করে ভোটারদের সমর্থন অর্জন করেন।
নির্বাচনের পর লুলা দা সিলভা এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের ঐক্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি উল্লেখ করেন, 'ব্রাজিলের ভবিষ্যৎ সকলের জন্য সমান সুযোগের ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে'। প্রতিপক্ষের প্রধান প্রার্থী জে.সোয়াজি সরকারী নীতি সমালোচনা করে, লুলার অর্থনৈতিক নীতি অতিরিক্ত ব্যয়বহুল হবে বলে সতর্ক করেন। দেশীয় বিশ্লেষকরা লুলার পুনরায় ক্ষমতায় আসা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও বিনিয়োগের পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে অনুমান করেন, তবে রাজনৈতিক বিরোধিতা ও পার্টি বিভাজনকে ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন। বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও লুলার বিজয়কে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের নতুন সুযোগ হিসেবে স্বাগত জানিয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে।
লুলা দা সিলভা শীঘ্রই ১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন এবং তার প্রথম কর্মসূচিতে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার জন্য নীতি নির্ধারণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তার সরকার আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ঋণ হ্রাস এবং বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা চালু করবে। এছাড়া, লুলা দক্ষিণ আমেরিকান দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি শক্তিশালীকরণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। দেশের অভ্যন্তরে সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার রক্ষার জন্য নতুন আইন প্রণয়নের কাজ চলছে, যা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক সুনাম বৃদ্ধি করতে সহায়ক হবে।