২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রস্তুত করা ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পাঠ্যপুস্তকে প্রকাশ্য ত্রুটি প্রকাশের পর জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড কর্তৃক সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানে বই ফেরত পাঠিয়ে ত্রুটি সংশোধনের আদেশ জারি করা হয়েছে। ত্রুটিগুলি মূলত পৃষ্ঠার বিন্যাস, চিত্রের মান এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারণার ভুল উপস্থাপনে প্রকাশ পেয়েছে, যা শিক্ষার্থীর শেখার গুণগত মানকে প্রভাবিত করতে পারে বলে বোর্ড তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য বোধ করেছে। এই নির্দেশনা শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গুণগত মান রক্ষার লক্ষ্যে নেওয়া জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, পূর্ববর্তী শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যপুস্তকের গুণগত মান উন্নয়নের জন্য বহুবার পুনর্বিবেচনা ও সংশোধন প্রক্রিয়া চালু করা হয়েছে। তবে এইবারের ত্রুটি প্রকাশের মূল কারণ মুদ্রণ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত ডিজিটাল ফাইলের সংস্করণ নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি এবং শেষ মুহূর্তে করা হালকা সম্পাদনার ফলে হয়েছে। ত্রুটিগুলি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য পরীক্ষার সময় শিক্ষকদের কাছ থেকে জানানো হয়, যার ফলে দ্রুত সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা উদ্ভাসিত হয়। এই পটভূমি বোঝা গেলে দেখা যায় যে, প্রকাশনা ও মুদ্রণ চেইনের সমন্বিত তত্ত্বাবধানের অভাবই মূল সমস্যার মূল কারণ।
বই ফেরত নির্দেশের পর জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের মুখপাত্র শিক্ষামন্ত্রী মউশি সংশ্লিষ্ট মুদ্রণ সংস্থাকে ত্রুটি দ্রুত সংশোধন করে পুনরায় মুদ্রণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মুদ্রণ সংস্থার প্রধানও ত্রুটির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে সংশোধন প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ দ্রুততা বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শিক্ষক সমিতি এবং অভিভাবক গোষ্ঠীও এই ত্রুটির প্রকাশে উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীর শিক্ষার ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ত্বরিত পদক্ষেপের দাবি জানায়। বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, ত্রুটিযুক্ত বই ব্যবহার করলে শিক্ষার্থীর ধারণা গঠনে বাধা সৃষ্টি হতে পারে, ফলে শিক্ষার মান হ্রাস পেতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাতীয় পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ত্রুটি সংশোধনের জন্য বিশেষ তদারকি কমিটি গঠন করে সংশোধিত ফাইলের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুনঃমুদ্রণের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে। নতুন বইগুলো আগামী দুই মাসের মধ্যে পুনরায় বিতরণ করা হবে এবং পূর্বে বিতরণকৃত ত্রুটিযুক্ত কপিগুলি সংগ্রহ করে ধ্বংস করা হবে। ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে ডিজিটাল ফাইলের সংস্করণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা, মুদ্রণ প্রক্রিয়ার স্বতন্ত্র তত্ত্বাবধান এবং ত্রুটি সনাক্তকরণের জন্য স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলো শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গুণগত মান বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।