প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
অপরাধ

বেশি বেতনে চীনে চাকরির প্রলোভন, পাচারের জন্য আটকে রেখে ১২ নারীকে নির্যাতন

চীন‑এর শেনঝেন শহরে গত সপ্তাহে ১২ জন বাংলাদেশী নারীকে গোপন গুদাম ঘরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই নারীরা উচ্চ বেতনে
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 28, 2026 প্রিন্ট: 29 Oct 2026, 09:02 PM
বেশি বেতনে চীনে চাকরির প্রলোভন, পাচারের জন্য আটকে রেখে ১২ নারীকে নির্যাতন

চীন‑এর শেনঝেন শহরে গত সপ্তাহে ১২ জন বাংলাদেশী নারীকে গোপন গুদাম ঘরে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এই নারীরা উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভনে চীনে গমন করে, তবে পৌঁছানোর পর পাচার সংস্থার দ্বারা মানব পাচার ও অবৈধ পণ্য পরিবহনের কাজে বাধ্য করা হয়। ঘটনাটি আন্তর্জাতিক মানব পাচার নেটওয়ার্কের একটি নতুন রূপ হিসেবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে এবং দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ধরনের পাচার কেসের পেছনে প্রায়শই অপ্রতিষ্ঠিত রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি ও অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থান সেবা কাজ করে। পূর্বে ২০১৯ ও ২০২১ সালে একই রকম প্রলোভন‑ভিত্তিক মানব পাচার কেসে বহু নারীকে চীনের সীমান্তে আটকে রাখা ও শোষণ করা হয়েছে। চীন‑বাংলাদেশের সীমান্তে অবৈধ পারাপার পথ, বিশেষ করে গুওলিন ও হুয়ানঝৌ অঞ্চলে, মানব পাচারকারীরা ভয়ানক শর্তে শ্রমিকদের ব্যবহার করে। এই পটভূমি বোঝা যায় যে, উচ্চ বেতনের প্রতিশ্রুতি ও কর্মসংস্থান সুরক্ষার অভাবই মূল চালিকাশক্তি।

বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থা ও পরিবারিক সমিতি দ্রুত ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে চীনা কর্তৃপক্ষের কাছে কঠোর তদন্তের আহ্বান জানায়। চীনের দূতাবাসের মুখপাত্রও জানিয়েছেন যে, সংশ্লিষ্ট নারীদের স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার অধীনে শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ভিকটিমদের পরিবারে শোকের ছায়া ছড়িয়ে আছে, তবু তারা পুনর্বাসন ও মানসিক সহায়তার জন্য সরকারী সাহায্য চায়। জনমতও এই ঘটনার প্রতি রাগ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে মানব পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি তীব্র হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে ভিকটিমদের ত্বরিত প্রত্যাবর্তন ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা তৈরি করেছে। বিদেশি শ্রমিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে মামলাটির পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, অপরাধী সনাক্তকরণ ও আন্তর্জাতিক আইনি সহায়তা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি, মানব পাচার বিরোধী আইন প্রয়োগে কঠোরতা আনা, রিক্রুটমেন্ট এজেন্সির লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং সচেতনতা বৃদ্ধি কর্মসূচি চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে দ্বিপাক্ষিক নিরাপত্তা চুক্তি ও তথ্য শেয়ারিং প্রোটোকল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আলোচনায় রয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ