প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
জাতীয়

মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত যেভাবে দেবেন

গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের গুলশান এলাকায় ‘মা‑বাবাকে নামাজের দাওয়াত কীভাবে দেবেন’ শিরোনামে একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করা হয়। কর্মশালাটি স্থানীয় মসজিদ পরিচালনা ক
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 28, 2026 প্রিন্ট: 29 Oct 2026, 01:54 AM
মা-বাবাকে নামাজের দাওয়াত যেভাবে দেবেন

গত সপ্তাহে ঢাকা শহরের গুলশান এলাকায় ‘মা‑বাবাকে নামাজের দাওয়াত কীভাবে দেবেন’ শিরোনামে একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা আয়োজন করা হয়। কর্মশালাটি স্থানীয় মসজিদ পরিচালনা কমিটি ও নারী সংস্থা যৌথভাবে আয়োজন করে, যেখানে ২০০ টিরও বেশি পরিবার অংশগ্রহণ করে। কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল পরিবারের মধ্যে ধর্মীয় অনুশীলনকে সমর্থন করার জন্য সঠিক পদ্ধতি ও শিষ্টাচার শেখানো, যাতে সন্তানরা বয়স্কদের প্রতি সম্মান ও দায়িত্ববোধ বজায় রেখে নামাজে অংশগ্রহণের আহ্বান জানাতে পারে। এই উদ্যোগটি সামাজিক সংহতি ও ধর্মীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে তৎক্ষণাৎ ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করে।

বাংলাদেশে ঐতিহ্যগতভাবে সন্তানদের দায়িত্বের মধ্যে বাবা‑মা‑কে নামাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করা অন্তর্ভুক্ত। তবে আধুনিক জীবনের দ্রুতগতি, নগরায়ন ও কাজের চাপের ফলে এই প্রথা ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশেষত শহুরে পরিবারগুলোতে বয়স্কদের স্বাস্থ্যের অবনতি ও একাকিত্বের সমস্যার সঙ্গে ধর্মীয় অনুশীলনের ঘাটতি যুক্ত হয়েছে। এই পটভূমিতে ধর্মীয় নেতারা ও সমাজকর্মীরা একত্রে কাজ করে একটি কাঠামোবদ্ধ পদ্ধতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন, যাতে সন্তানরা সঠিকভাবে মা‑বাবার প্রতি সম্মানসূচক দাওয়াত জানাতে পারে এবং পারিবারিক বন্ধনকে মজবুত করা যায়। এছাড়া, গবেষণা দেখায় যে নিয়মিত নামাজে অংশগ্রহণ বয়স্কদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।

কর্মশালায় উপস্থিত ধর্মীয় পণ্ডিত মুফতি হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘মা‑বাবার প্রতি দাওয়াত জানানো কেবল শিষ্টাচার নয়, এটি ইসলামী নৈতিকতার মূল ভিত্তি। সন্তানদের উচিত সম্মানজনক ভাষা ও ভদ্র ভঙ্গিতে দাওয়াত জানিয়ে তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো।’ একই সঙ্গে স্থানীয় মসজিদ প্রধান মসজিদ মুফতি রশিদ উদ্দিন যোগ করেন, ‘আমরা এখানে সুনির্দিষ্ট উদাহরণ দিয়ে দেখিয়েছি কীভাবে নামাজের সময়সূচি, দোয়া ও প্রার্থনা শেয়ার করা যায়।’ অংশগ্রহণকারী এক তরুণ মা‑বাবা জানান, ‘এই কর্মশালার মাধ্যমে আমরা কীভাবে সঠিকভাবে দাওয়াত জানাব তা শিখে পরিবারে শান্তি ও সমঝোতা বাড়বে।’

স্থানীয় সরকার এই ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচিকে সমর্থন জানিয়ে আগামী ছয় মাসে প্রতিটি উপজেলা ও পৌরসভায় অনুরূপ কর্মশালা চালু করার পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। শিক্ষা ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ও বিদ্যালয় ও কলেজে ধর্মীয় নৈতিকতা বিষয়ক পাঠ্যক্রমে পারিবারিক দায়িত্বের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া, মসজিদ পরিচালনা কমিটি ভবিষ্যতে মাসিক দাওয়াত প্রশিক্ষণ সেশন চালু করে, যাতে নতুন প্রজন্মের সন্তানরা ধারাবাহিকভাবে সঠিক পদ্ধতি শিখে নিতে পারে। এই সমন্বিত পদক্ষেপগুলোকে একত্রে বাস্তবায়ন করে সমাজে ধর্মীয় ঐক্য ও পারিবারিক বন্ধনকে শক্তিশালী করা সম্ভব হবে বলে বিশেষজ্ঞরা আশাবাদী। এই উদ্যোগের সফলতা মাপতে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে জরিপ পরিচালনা করা হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ