প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
জাতীয়

দুর্বল হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আজকের পূর্বাভাসে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ মেটেরিওলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (বিএমডি) অনুযায়ী
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Oct 29, 2026 প্রিন্ট: 29 Oct 2026, 10:28 AM
দুর্বল হয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, দেশের কিছু স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা

বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ আজকের পূর্বাভাসে উল্লেখযোগ্যভাবে দুর্বল হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ মেটেরিওলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (বিএমডি) অনুযায়ী, অর্ণবের সর্বোচ্চ বায়ু গতি গত ২৪ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা থেকে কমে ৯০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা মাত্রে নেমে এসেছে। এর ফলে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে তীব্র বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা কমে গিয়েছে, তবে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও ফেনী জেলায় এখনও মাঝারি বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। দুর্বলতা সত্ত্বেও, ঘূর্ণিঝড়ের বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তন এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা হ্রাসের ফলে সম্ভাব্য সুনামির ঝুঁকি এখনও বিদ্যমান, তাই সতর্কতা অব্যাহত রাখা জরুরি।

অর্ণব ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি ভারত মহাসাগরের উত্তরের দিকে, যেখানে উষ্ণ সমুদ্রের পৃষ্ঠ তাপমাত্রা ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে ছিল। ২৪ জুলাই রাতে বায়ুপ্রবাহের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়ে, বায়ু গতি ১৫০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা পর্যন্ত পৌঁছায় এবং ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রবিন্দু বাংলাদেশ উপকূলে প্রবেশের প্রস্তুতি নেয়। পূর্বে অর্ণবের তীব্রতা ‘সুপার সাইক্লোন’ পর্যায়ে ছিল, যা দেশের পূর্বের ঘূর্ণিঝড়ের রেকর্ডকে অতিক্রম করেছিল। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের মধ্যে সমুদ্রের তাপমাত্রা হ্রাস এবং উচ্চ বায়ু প্রবাহের পরিবর্তনের ফলে ঘূর্ণিঝড়ের শক্তি হ্রাস পায়, যা বৈজ্ঞানিকভাবে ‘ইন্টারঅ্যাকশন ইফেক্ট’ নামে পরিচিত।

বিএমডি প্রধান আবহাওয়া বিজ্ঞানী ড. রশিদুল হক জানান, “অর্ণবের তীব্রতা হ্রাসের পরেও, বৃষ্টিপাতের তীব্রতা এবং বায়ুপ্রবাহের দিক পরিবর্তনের কারণে স্থানীয় স্তরে ক্ষতি হতে পারে”। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের মতে, পূর্বে জারি করা ১০,০০০ টনের বেশি ত্রাণ সামগ্রী এবং ১,৫০০টি শেল্টার প্রস্তুত রয়েছে, এবং জরুরি সেবা দলগুলোকে ২৪ ঘণ্টা সজাগ রাখা হবে। স্থানীয় বাসিন্দারা পূর্বাভাসের ভিত্তিতে গৃহস্থালির জানালা ও দরজা সুরক্ষিত করেছে এবং বন্যা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অস্থায়ীভাবে স্থানান্তরিত হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমের মাধ্যমে প্রচারিত সতর্কতা ও তথ্যের দ্রুত বিস্তার জনসচেতনতা বৃদ্ধি করেছে।

অভ্যন্তরীণ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর (ডিএমডি) আজকের মধ্যে অর্ণবের অবশিষ্ট শক্তি পর্যবেক্ষণ করে, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ত্রাণ সামগ্রী ও চিকিৎসা সেবা সরবরাহের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সমুদ্র তীরবর্তী এলাকায় সম্ভাব্য সুনামির জন্য উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সমুদ্র তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ উচ্চভূমিতে স্থানান্তরের পরিকল্পনা কার্যকর করা হবে। পাশাপাশি, কৃষি মন্ত্রণালয় ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিয়ে বলছেন, ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী পর্যায়ে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বাড়তে পারে, তাই দীর্ঘমেয়াদী পর্যবেক্ষণ এবং জনসচেতনতা বজায় রাখা অপরিহার্য।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ