বরিশাল জেলার হিজলা থানা অধীনে অবস্থিত মেঘনা নদীর তীরে ২৪ অক্টোবর ২০২৩ সন্ধ্যায় জেলাকার্যরত ৪০ বছর বয়সী আক্তার হোসেন হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। হাওলাদারকে হিজলা জেলখানায় গৃহবন্দি অবস্থায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল, তবে অপরাধমূলক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে নদীর তীরে গুলিবিদ্ধ করা হয়। ঘটনাটি স্থানীয় বাসিন্দা এবং জেলকর্মীদের দ্বারা প্রত্যক্ষ করা হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় মিডিয়ায় প্রচারিত হয়। গুলিবিদ্ধের পরপরই হাওলাদারের দেহ নদীর তীরে পাওয়া যায়, যা মানবাধিকার সংস্থা ও সমাজের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করে। স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক বিবরণে বলা হয়েছে যে গুলিবিদ্ধের সময় কোনো সশস্ত্র সংঘর্ষের তথ্য পাওয়া যায়নি এবং হাওলাদারের গুলি চালানোর উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। এই ঘটনায় জেল ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটির প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
হিজলা জেলখানা, যা ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ভিড়, অপর্যাপ্ত তত্ত্বাবধান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাবের অভিযোগে সমালোচিত হয়েছে। অতীতেও জেলভিত্তিক হিংসা ও আত্মহত্যার ঘটনা রেকর্ডে রয়েছে; ২০১৯ সালে একই জেলখানায় দুই বন্দীর গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং ২০২১ সালে এক বন্দীর গুলিবিদ্ধে মারা যাওয়া ঘটনাগুলি বিশেষ দৃষ্টিগোচর হয়েছে। মেঘনা নদীর তীরবর্তী জেলখানা, যা নদীর প্রবাহের সঙ্গে সংযুক্ত, প্রায়ই জেলকর্মী ও বন্দীর মধ্যে সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। নিরাপত্তা ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হওয়ায় গুলিবিদ্ধের মুহূর্তে সঠিক প্রমাণ সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়ে। এই পটভূমিতে হাওলাদারের গুলিবিদ্ধের ঘটনা জেল ব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাকে উন্মোচিত করে।
হাওলাদারের পরিবার ঘটনাস্থলে এসে শোক প্রকাশ করে এবং পুলিশের দ্রুত তদন্তের দাবি জানায়। মানবাধিকার সংস্থা 'বিচারবোধ' এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জেলখানার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিবেচনা ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের ওপর কঠোর শাস্তি আরোপের আহ্বান জানায়। জেলকর্মীরা গুলিবিদ্ধের সময় উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি করে, তবে গুলির উৎস ও দায়িত্ব সম্পর্কে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে অস্বীকার করে। স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে এই ঘটনার প্রতি রাগ ও হতাশা দেখা যায়; সামাজিক মিডিয়ায় #মেঘনা_গুলিবিদ্ধ হ্যাশট্যাগে ব্যাপক আলোচনা চালু হয়। বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের ঘটনা জনসাধারণের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার প্রতি সরকারের অবহেলা প্রকাশ করে।
হিজলা থানা গুলিবিদ্ধের পরপরই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রেজিস্টার করে, তবে ২৪ ঘণ্টা পরও কোনো অপরাধমূলক মামলা দায়ের করা হয়নি। জেলখানা প্রধানের নির্দেশে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার সদস্য হিসেবে জেলা প্রশাসক, পুলিশ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্ত। কমিটি গৃহীত প্রমাণের ভিত্তিতে গুলিবিদ্ধের দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাশাপাশি, জেলখানার নিরাপত্তা ক্যামেরা ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের পরিকল্পনা সরকার অনুমোদন করেছে, যা ভবিষ্যতে অনুরূপ ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।