প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
জাতীয়

গঙ্গার পানি না এলে ভারতের পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় যুব সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গঙ্গা পানিবণ্টন, সংবিধান সংস্কার এবং মাতারবাড়ী চুক্তি নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Nov 1, 2026 প্রিন্ট: 05 Nov 2026, 09:45 AM
গঙ্গার পানি না এলে ভারতের পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় যুব সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গঙ্গা পানিবণ্টন, সংবিধান সংস্কার এবং মাতারবাড়ী চুক্তি নিয়ে সরকারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গঙ্গা নদীর পানির প্রবাহ বন্ধ হলে সীমান্ত পারাপার বাণিজ্যিক লেনদেনের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়বে এবং দেশের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই বক্তব্যের তাৎক্ষণিক গুরুত্ব সম্মেলনের উপস্থিতি, মিডিয়া ও বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, কারণ গঙ্গা পানির ওপর নির্ভরশীল কৃষি, শিল্প ও বিদ্যুৎ উৎপাদন সেক্টরগুলো ইতিমধ্যে সংকটের মুখে রয়েছে।

গঙ্গা পানির বণ্টন সংক্রান্ত বিরোধের পটভূমি বহু দশক আগে থেকেই বিদ্যমান। গঙ্গা-যমুনা নদী সমবায় সংস্থার (GBR) পূর্ববর্তী চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় অংশ থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পানি বাংলাদেশে সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় পার্শ্বের জলাভূমি শোষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সরবরাহের পরিমাণ হ্রাস পেতে শুরু করে। তদুপরি, মাতারবাড়ী প্রকল্পের অধীনে ভারতীয় কোম্পানিগুলোকে বিশাল পরিমাণ লিকুইড প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যা গঙ্গা পানির পরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বয়হীনভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এই দুইটি বিষয় একত্রে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে।

নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, গঙ্গা পানির অভাবে দেশের কৃষি উৎপাদন হ্রাস পাবে, বিশেষত উত্তরাঞ্চলের ধান ও সবজি চাষে ক্ষতি হবে। তিনি আরও বলেন, গঙ্গা পানির ওপর নির্ভরশীল বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো যদি পর্যাপ্ত জ্বালানি না পায়, তবে বিদ্যুৎ ঘাটতি বৃদ্ধি পাবে এবং শিল্পখাতে উৎপাদন কমে যাবে। এই মন্তব্যের পর সরকারী প্রতিনিধিরা ব্যাখ্যা দেন যে, বিদ্যমান চুক্তির অধীনে পানি সরবরাহের পরিমাণ পুনর্বিবেচনা করা হচ্ছে এবং অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে বিকল্প জলাশয় উন্নয়নের পরিকল্পনা চলছে। সাধারণ জনগণও এই আলোচনায় উদ্বিগ্ন, কারণ গঙ্গা পানির ঘাটতি সরাসরি তাদের জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বর্তমান পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে গঙ্গা পানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ত্বরান্বিত করা এবং মাতারবাড়ী চুক্তির শর্তাবলী পুনর্মূল্যায়ন করা। পাশাপাশি, পরিবেশ মন্ত্রণালয় গঙ্গা নদীর পানির গুণগত মান ও পরিমাণ পর্যবেক্ষণের জন্য নতুন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। সরকারী পরিকল্পনায় গঙ্গা পানির বিকল্প উৎস হিসেবে হ্রদ ও ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার বৃদ্ধি, এবং কৃষি ক্ষেত্রে সেচের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আধুনিক সেচ প্রযুক্তি প্রবর্তন অন্তর্ভুক্ত। ভবিষ্যৎ প্রেক্ষাপটে, গঙ্গা পানির স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং মাতারবাড়ী চুক্তির স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা দেশের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের জন্য অপরিহার্য বলে সরকারী সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ