প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
জাতীয়

সংসার সামলে ১৪ বছর পর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ‑৫ পেলেন গৃহবধূ

রীতি খাতুন, গৃহবধূ, ১৪ বছর পর আবার পড়াশোনার পথে পা বাড়িয়ে, এইচএসসি পরীক্ষা লিখে জিপিএ‑৫ অর্জন করেছেন। তার এই সাফল্য দেশের বহু গৃহিণীর জন্য প্রেরণার উৎস। রীতি ২০
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Nov 2, 2026 প্রিন্ট: 05 Nov 2026, 09:44 AM
সংসার সামলে ১৪ বছর পর এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে জিপিএ‑৫ পেলেন গৃহবধূ

রীতি খাতুন, গৃহবধূ, ১৪ বছর পর আবার পড়াশোনার পথে পা বাড়িয়ে, এইচএসসি পরীক্ষা লিখে জিপিএ‑৫ অর্জন করেছেন। তার এই সাফল্য দেশের বহু গৃহিণীর জন্য প্রেরণার উৎস। রীতি ২০০৯ সালে বিবাহের পর শিক্ষার ধারাবাহিকতা ত্যাগ করেন; সন্তান ও গৃহস্থালির দায়িত্বে নিমগ্ন থাকায় দীর্ঘকাল শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তবে সংসারের চাপ সামলাতে গিয়ে তিনি পুনরায় শিক্ষার প্রতি আগ্রহ জাগিয়ে তোলেন এবং এইবারের পরীক্ষায় শীর্ষ ফলাফল অর্জন করে নিজস্ব আত্মবিশ্বাসকে নতুন দিগন্তে প্রসারিত করেছেন।

রীতির শিক্ষাবিদ্যা বন্ধ হওয়ার পেছনে সামাজিক ও আর্থিক বাধা ছিল প্রধান কারণ। বিবাহের পর তার স্বামী ও পরিবারের সমর্থন সীমিত ছিল, তবে সন্তানদের বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে তার স্বামীও শিক্ষার গুরুত্ব স্বীকার করে তাকে সমর্থন করতে শুরু করেন। রীতি স্থানীয় কোনো শিক্ষা কেন্দ্রের সাহায্য নিয়ে স্বশিক্ষা শুরু করেন, রাতের বেলা শিশুরা ঘুমিয়ে গেলে বই ও নোটে মনোযোগ দেন। দীর্ঘ সময়ের ঘাটতি পূরণে তিনি অতিরিক্ত পাঠ্যবই, অনলাইন লেকচার এবং টিউটরিং সেবা ব্যবহার করেন, যা তার প্রস্তুতিকে দৃঢ় করে তুলেছে।

পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর রীতি গর্বিত স্বরে বলেন, “সংসার সামলাতে গিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে না চেয়ে, আবার শিক্ষার পথে ফিরে আসা আমার জন্য এক নতুন সূচনা।” তার স্বামীও আনন্দের অশ্রু নিয়ে বলেন, “রীতির এই সাফল্য আমাদের পরিবারের গর্ব, এবং এটি অন্য গৃহবধূদের জন্য উদাহরণ হবে।” শিক্ষকদের মন্তব্যে রীতি’কে “উদ্যমী ও দৃঢ়সংকল্পের মডেল” বলা হয়েছে। প্রতিবেশী ও স্থানীয় নারী সংগঠনগুলোও রীতির প্রচেষ্টাকে স্বীকৃতি দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে এবং অনুরূপ উদ্যোগে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় পরীক্ষাকেন্দ্রের প্রতিনিধিরা রীতির সাফল্যকে দেশের শিক্ষার সমন্বিত উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং গৃহবধূদের শিক্ষার জন্য বিশেষ স্কলারশিপ ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিভিন্ন এনজিও ও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা এখন গৃহিণী শিক্ষার্থীদের জন্য টিউটরিং, আর্থিক সহায়তা এবং মানসিক পরামর্শ প্রদান করছে। রীতির গল্প ভবিষ্যতে আরও নারীর আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তুলবে এবং দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ