প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রীষ্মের আগেই দেশের বিদ্যুৎ গ্রিডে অতিরিক্ত চার হাজার মেগাওয়াট (৪ GW) সৌরবিদ্যুৎ সংযোজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এই সিদ্ধান্তটি দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, আর গ্রীষ্মকালে চরম তাপমাত্রা ও এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে লোড শেডিংয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই গ্রীষ্মের আগেই এই বৃহৎ পরিমাণের সৌরশক্তি গ্রিডে যুক্ত করা দেশের শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশগত দৃষ্টিকোণ থেকেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সৌরশক্তি উন্নয়নের পটভূমিতে বাংলাদেশ সরকার ২০২০ সালে নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য ২০% নির্ধারণ করে, যার মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ ১০ GW পর্যন্ত বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে। পূর্বে ২০২১ সালে ১,৫০০ মেগাওয়াট সৌরশক্তি গ্রিডে সংযুক্ত করা হয়, এবং ২০২২-২০২৩ আর্থিক বছরে অতিরিক্ত ১,২০০ মেগাওয়াট প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মোট ক্ষমতা এখনও ৩২,০০০ মেগাওয়াটের নিচে, যা চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অতএব, সরকার নতুন টার্নকি প্রকল্প, বৃহৎ স্কেল ফটোভোল্টিক পার্ক এবং ছাদের সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে দ্রুত ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সচিবেরাও প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করেন। মন্ত্রীর মতে, আগামী ছয় মাসের মধ্যে ৪,০০০ মেগাওয়াটের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ, অনুমোদন প্রক্রিয়া এবং আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। বিদ্যুৎ সংস্থা (বিডি) ও বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, সৌরশক্তি উৎপাদন খরচের হ্রাস এবং গ্রিডের স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। সাধারণ জনগণের মধ্যে এই পদক্ষেপের প্রতি ইতিবাচক সাড়া দেখা গেছে; গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমে জীবনের মানোন্নয়ন হবে বলে আশাবাদী।
কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে ২০২৪ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রথম ব্যাচের টার্নকি প্রকল্পের জন্য টেন্ডার প্রকাশ করেছে এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে ঋণ সুবিধা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি, সরকার স্থানীয় উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে প্যানেল উৎপাদন বাড়াতে প্রণোদনা প্রদান করবে, যাতে আমদানি নির্ভরতা কমে। ভবিষ্যতে সৌরশক্তি গ্রিডে সংযুক্তির হার বাড়াতে স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি ও এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের ব্যবহার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই সমন্বিত কৌশলটি দেশের দীর্ঘমেয়াদী শক্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, জ্বালানি মিশ্রণকে আরও টেকসই ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে।