বিশ্ব তেল বাজারে বার্ষিক সর্বনিম্ন মূল্যে ক্রুড তেলের দাম হ্রাস পেতে দেখা গেলেও, বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের বিক্রয়মূল্য পূর্বে ঘোষিত বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় বৃদ্ধি পেতে বাধ্য হয়েছে। সরকারী সূত্র অনুযায়ী, ১ অক্টোবর থেকে পেট্রোল, ডিজেল ও কেরোসিনের রিটেইল মূল্যে যথাক্রমে ৩, ৪ ও ২ টাকার সমন্বয় করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে সঙ্গে দেশের প্রধান রপ্তানি‑আমদানি শিল্প, পরিবহন খাত এবং গৃহস্থালী ভোক্তাদের উপর তীব্র আর্থিক চাপের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। তেলের দামের এই উল্টো প্রবণতা দেশীয় অর্থনীতির সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি হারকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা উন্মোচিত করেছে।
বিশ্ব তেল বাজারে দামের পতনের প্রধান কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ প্রধান ভোগ্য দেশগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, কোভিড‑১৯ পরবর্তী চাহিদা হ্রাস এবং ওপিএকিউ (OPEC) এর অতিরিক্ত সরবরাহ নীতি উল্লেখ করা হয়। তবে বাংলাদেশে তেলের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক দামের পাশাপাশি রপ্তানি শুল্ক, সুনির্দিষ্ট ভ্যাট হার, মুদ্রা বিনিময় হার এবং জ্বালানি তহবিলের আর্থিক ঘাটতি বিবেচনা করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ডলার রেটের ধারাবাহিক উর্ধ্বগতি, ট্যাক্স রেটের পুনর্বিবেচনা এবং তেল রিফাইনিং খাতে অতিরিক্ত ব্যয় এইসব উপাদান দেশীয় জ্বালানি মূল্যের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন, “বৈশ্বিক দামের হ্রাস সত্ত্বেও, দেশের আর্থিক স্বাস্থ্যের রক্ষার জন্য তেলের রিটেইল মূল্যে সাময়িক সমন্বয় অপরিহার্য”। ভোক্তা অধিকার সংস্থা ও বাণিজ্যিক গোষ্ঠী ত্বরিত মূল্য স্থিতিশীলতা ও ট্যাক্স হ্রাসের দাবি জানায়। ট্রাক চালক ও রেলওয়ে কর্মীসহ পরিবহন খাতের প্রতিনিধিরা জ্বালানি মূল্যের বৃদ্ধির ফলে লজিস্টিক খরচের বৃদ্ধি এবং পণ্য মূল্যের ওপর প্রভাবের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে, গৃহস্থালী ভোক্তারা গ্যাস স্টেশন ও পেট্রোল পাম্পে লম্বা সারি ও ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের অভিযোগ তুলেছেন।
সরকারি দিক থেকে তেল দামের সাময়িক স্থবিরতা নিশ্চিত করতে তেল তহবিলের রিজার্ভ ব্যবহার, ট্যাক্স হ্রাসের প্রস্তাব এবং রিফাইনিং খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, মুদ্রা বিনিময় হার স্থিতিশীল করার জন্য বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা উন্মুক্ত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তেল দামের আন্তর্জাতিক প্রবণতা অনুসরণ করে, সরকার তেল রিফাইনিং ক্ষমতা বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকাশ এবং জ্বালানি সঞ্চয় নীতি কার্যকর করার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী মূল্য স্থিতিশীলতা অর্জনের লক্ষ্য স্থাপন করেছে। এই পদক্ষেপগুলো দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।