গতকাল সন্ধ্যায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তেরো ঘণ্টার মধ্যে ৬২ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে ছোট্ট মিনহার ক্যানসার চিকিৎসার জন্য। এই তীব্র আর্থিক সাড়া দেশের বিভিন্ন প্রান্তের নাগরিক, ব্যবসায়ী, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলাফল। তহবিলের দ্রুত সঞ্চয় দেশীয় দাতব্য সংস্কৃতির শক্তি ও মানবিক সহানুভূতির প্রকাশ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে, যা স্বাস্থ্যসেবা ক্ষেত্রে জরুরি আর্থিক সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
মিনহার, যিনি মাত্র পাঁচ বছর বয়সী, সাম্প্রতিক সময়ে অগ্রসর পর্যায়ের লিউকেমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তার পরিবার অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে; মা মালিহা মোবাকশ্বেরার একক আয়ের ওপর পরিবারটি নির্ভরশীল। পূর্বে স্থানীয় হাসপাতাল ও বেসরকারি ক্লিনিক থেকে সীমিত চিকিৎসা সেবা পেতে গিয়ে, পরিবারটি তহবিল সংগ্রহের জন্য সামাজিক মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে আবেদন জানায়। এই আবেদনটি দ্রুতই অনলাইন ও অফলাইন উভয় ক্ষেত্রেই ছড়িয়ে পড়ে, ফলে দেশের বিভিন্ন কোণ থেকে দান সংগ্রহের উদ্যোগ শুরু হয়।
মিনহারের মা মালিহা মোবাকশ্বেরা তহবিল সংগ্রহের সময় কিছুটা হাসি দেখিয়ে বলেন, “অনেকে ১০০ টাকা, ৫০০ টাকা বা আরও কম টাকাও মিনহার জন্য পাঠিয়েছেন। সব মিলিয়ে সহায়তার পরিমাণটা বেড়েছে।” তদুপরি, স্থানীয় চিকিৎসক ও হাসপাতালের প্রধানরা মিনহারের রোগের তীব্রতা ও ত্বরিত চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে, “এই তহবিলের মাধ্যমে আমরা সর্বোচ্চ মানের কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন থেরাপি প্রদান করতে পারব।” দাতারা, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, সামাজিক নেটওয়ার্কে পোস্ট শেয়ার করে বৃহত্তর সমর্থন জোগাড়ে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ত্বরিত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রতিশ্রুতি জানিয়েছে। তহবিলের স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে একটি তহবিল ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করা হয়েছে, যেখানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক সংস্থা এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া, সরকারী হাসপাতালগুলোতে ক্যানসার রোগীর জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা পরিকল্পনা চালু করার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছে, যাতে ভবিষ্যতে অনুরূপ জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়। এই উদ্যোগগুলো মিনহার ও তার পরিবারের জন্য আশা জাগিয়ে তুলেছে এবং দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার উন্নয়নে নতুন দৃষ্টিকোণ যোগ করেছে।