প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
সারাদেশ

কালীগঙ্গার পাড়ে কাকের সমবেত কলতানে সন্ধ্যার ঘণ্টাধ্বনির মতো মুখরতা

বাংলাদেশের প্রকৃতির অপরাজিত সৌন্দর্যের একটি অনন্য দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে। সন্ধ্যার সময় নদীর তীরবর্তী বিশাল গাছগুলোতে হাজারো কাক সমবেত হয়ে কল
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Nov 4, 2026 প্রিন্ট: 05 Nov 2026, 05:56 PM
কালীগঙ্গার পাড়ে কাকের সমবেত কলতানে সন্ধ্যার ঘণ্টাধ্বনির মতো মুখরতা

বাংলাদেশের প্রকৃতির অপরাজিত সৌন্দর্যের একটি অনন্য দৃশ্যপট তৈরি হয়েছে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে। সন্ধ্যার সময় নদীর তীরবর্তী বিশাল গাছগুলোতে হাজারো কাক সমবেত হয়ে কলতান শুরু করলে চারপাশের নীরবতা ভেঙে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা এই দৃশ্যকে সন্ধ্যার ঘণ্টাধ্বনির সাথে তুলনা করে, কারণ কাকগুলোর সমন্বিত শব্দ এমন একটি সুর তৈরি করে যা কানে লাগে অত্যন্ত মধুর ও শান্তিপূর্ণ। এই প্রাকৃতিক সুরের আবেশে প্রতিদিন সন্ধ্যায় নদীর পাড়ে ভিড় জমায় স্থানীয় ও পর্যটকরা।

কালীগঙ্গা নদীটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলসম্পদ এবং এটি স্থানীয় জীবনযাত্রার সাথে গভীরভাবে জড়িত। নদীর পাড়ে বিস্তৃত বনজ অঞ্চল এবং ঘন ঘন গাছপালা কাকসহ বিভিন্ন পাখির জন্য আশ্রয়স্থল হিসেবে কাজ করে। বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন ও শহুরে এলাকায় বনানী হ্রাসের প্রেক্ষাপটে কালীগঙ্গার পাড়ের এই প্রাকৃতিক ভারসাম্য অত্যন্ত মূল্যবান। স্থানীয়রা দাবি করেন, গত কয়েক বছরে কাকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের স্বাস্থ্যকর অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই দৃশ্যকে তাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হিসেবে গণ্য করেন। বৃদ্ধ বয়স্করা বলছেন, কাকের কলতান শুনতে গিয়ে মন শান্ত হয় এবং দিনের ক্লান্তি দূর হয়। শিক্ষার্থীরাও এই প্রাকৃতিক সুরের আবেশে নদীর পাড়ে আসে এবং এটি তাদের মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। তবে কিছু পরিবেশবিদরা সতর্ক করে দিয়েছেন, কাকের অতিরিক্ত সংখ্যা কিছু ক্ষেত্রে কৃষি ক্ষতি বা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে, তাই ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি।

কর্তৃপক্ষ এই প্রাকৃতিক সম্পদকে সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়নের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখার পরিকল্পনা করছে। নদীর পাড়ে পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এবং পরিবেশগত সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই এলাকাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্রে রূপান্তরিত হতে পারে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে। স্থানীয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রেখেই এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, যাতে আগামী প্রজন্মও এই অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ