ঢাকার উত্তরায় একটি উচ্চ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটকে ২৪শে অক্টোবর সন্ধ্যাবেলায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ তুলে হেনস্তা করা হয়। ঘটনাস্থলটি উত্তরায় রোড‑৪১, যেখানে ম্যাজিস্ট্রেট শ্রীমতী রেহানা হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পর হঠাৎ কয়েকজন অচেনা ব্যক্তি তাকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করে। আক্রমণকারী ব্যক্তিরা হেনস্তা করার পর দ্রুত পালিয়ে যায়। ঘটনাটি তৎক্ষণাৎ স্থানীয় পুলিশকে জানানো হয় এবং জরুরি মেডিকেল সেবা প্রদান করা হয়। এই ঘটনার তাত্ক্ষণিক গুরুত্ব হল, বিচারিক স্বায়ত্তশাসন ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থার ওপর আঘাত হানার সম্ভাবনা, যা দেশের আইনি কাঠামোর প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে।
ম্যাজিস্ট্রেটের এই অভিযোগের পটভূমিতে দেশের বিভিন্ন স্তরে ঘুষের অভিযোগের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। পূর্বে একই রকম অভিযোগে উচ্চপদস্থ বিচারক ও সরকারি কর্মকর্তা গৃহীত দণ্ডের উদাহরণ রয়েছে, তবে প্রায়ই তদন্তের ধীরগতি ও ফলাফল অপ্রতুল হওয়ার অভিযোগ উঠে। উত্তরায় এলাকায় সাম্প্রতিককালে স্থানীয় ব্যবসায়িক গোষ্ঠী ও রিয়েল এস্টেট ডেভেলপারদের মধ্যে জমি ও পারমিট সংক্রান্ত বিরোধের সূত্রপাত হয়েছে, যা এই ধরনের অবৈধ লেনদেনের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়া, বিচারিক কর্মীদের ওপর চাপ ও হেনস্তার ঘটনা অতীতেও রেকর্ডে আছে, যা এই ঘটনার গম্ভীরতা ও প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ঘটনার পরপরই ম্যাজিস্ট্রেট রেহানা হোসেন একটি বিবৃতি দিয়ে জানান, তিনি কোনো ধরনের ঘুষ গ্রহণ করেননি এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পুলিশ প্রধানের মতে, আক্রমণকারী ব্যক্তিদের সনাক্তকরণে সিসিটিভি ফুটেজ ও সাক্ষীর বর্ণনা ব্যবহার করা হবে। রাজনৈতিক দলগুলোরও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; বিরোধী দলগুলো সরকারকে বিচারিক স্বায়ত্তশাসন রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তদন্তে ত্বরান্বিত হওয়ার দাবি জানিয়েছে, আর শাসক দলও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সাধারণ জনগণ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে, যেখানে অধিকাংশই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।
অধিকর্তারা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে FIR দায়ের করে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছেন। ডিপি অফিসারগণ তদন্তে বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করে, সিসিটিভি রেকর্ড, ফোন রেকর্ড এবং ব্যাংক লেনদেনের বিশ্লেষণ করে অপরাধীর পরিচয় বের করার কাজ শুরু করেছে। পাশাপাশি, ম্যাজিস্ট্রেটের নিরাপত্তা বাড়াতে অতিরিক্ত গার্ডি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং বিচারিক কর্মীদের সুরক্ষার জন্য নতুন নীতি প্রণয়নের কাজ চলছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর শাস্তি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য আইন সংস্কার ও তদারকি ব্যবস্থার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।