প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
জাতীয়

তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় আরও যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের

বাংলাদেশে মোবাইল সেবা প্রদানকারী অপারেটরদের তরঙ্গ নবায়ন সংক্রান্ত ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে সরকার ও জনসাধারণের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গ
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Nov 4, 2026 প্রিন্ট: 04 Nov 2026, 10:37 PM
তরঙ্গ নবায়ন ব্যয় আরও যৌক্তিক করার আহ্বান মোবাইল অপারেটরদের

বাংলাদেশে মোবাইল সেবা প্রদানকারী অপারেটরদের তরঙ্গ নবায়ন সংক্রান্ত ব্যয় বৃদ্ধি পেয়ে সরকার ও জনসাধারণের মধ্যে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গত সপ্তাহে প্রকাশিত নোটিশে উল্লেখ করেছে যে, ২০২৪ সালের শেষের দিকে নতুন ৫জি তরঙ্গের জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ফি ও পুনর্নবায়ন খরচের হার পূর্বের তুলনায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে অপারেটরদের আর্থিক চাপ বৃদ্ধি পাবে এবং শেষ ব্যবহারকারীর টারিফে সম্ভাব্য বৃদ্ধি ঘটতে পারে, যা গ্রাহকদের জন্য উদ্বেগের কারণ। সরকার এই পদক্ষেপকে ‘সামাজিক ন্যায্যতা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সমন্বয়’ হিসেবে উপস্থাপন করেছে, তবে বাজারে প্রতিক্রিয়া মিশ্র।

তরঙ্গ নবায়ন ব্যয়ের বৃদ্ধি পেছনে মূলত আন্তর্জাতিক রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (আইআরএফ) সংস্থার নতুন মূল্য নির্ধারণ নীতি এবং দেশীয় টেলিকম অবকাঠামোর আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। গত দশকে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যবহারকারীর সংখ্যা তিন গুণে বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং ৫জি সেবা চালু করার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ ব্যান্ডউইডথের চাহিদা বেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকার অতিরিক্ত ফি সংগ্রহের মাধ্যমে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, সিগন্যাল কভারেজ উন্নয়ন এবং গ্রামাঞ্চলে সেবা পৌঁছানোর জন্য তহবিল গঠন করতে চায়। তবে, এই নীতি বাস্তবায়নের আগে বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য রক্ষা এবং গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষার জন্য যথাযথ সমন্বয় প্রয়োজন।

মোবাইল অপারেটরদের প্রতিনিধিরা এই নীতির প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন যে, অতিরিক্ত ব্যয় সরাসরি টারিফে প্রতিফলিত হবে, যা নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের জন্য অতিরিক্ত বোঝা তৈরি করবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে তারা ব্যয়ের হ্রাসের জন্য ‘ধাপে ধাপে নবায়ন’ এবং ‘বড় পরিসরে একসাথে নবায়ন’ পদ্ধতি প্রস্তাব করেছে। একই সঙ্গে, গ্রাহক সেবা সংস্থাগুলোও এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, তারা দাবি করে যে, অপারেটরদের ব্যয়বহুল ফি আরোপের ফলে সেবা মানের হ্রাস, নেটওয়ার্ক ডাউনটাইম বৃদ্ধি এবং গ্রাহক সন্তুষ্টি হ্রাস পেতে পারে। জনমতেও এই বিষয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; সামাজিক মিডিয়ায় ব্যবহারকারীরা টারিফ বৃদ্ধির বিরোধিতা করে প্রতিবাদমূলক পোস্ট শেয়ার করছেন।

সরকারের বর্তমান পদক্ষেপ হিসেবে, তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে, যার দায়িত্ব হল ব্যয় কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন এবং অপারেটরদের সঙ্গে সমন্বয় করে যুক্তিসঙ্গত ফি নির্ধারণ করা। এছাড়া, সরকার টেলিকম সেক্টরের জন্য একটি ‘সাবসিডি তহবিল’ গঠন করার পরিকল্পনা করেছে, যাতে গ্রামীণ ও দুর্বল অঞ্চলগুলোতে সেবা সম্প্রসারণে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা যায়। ভবিষ্যতে, সরকার ২০২৬ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ৫জি কভারেজ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নীতি সমন্বয় এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করবে, যাতে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং গ্রাহকের স্বার্থের মধ্যে সুষম সমন্বয় বজায় থাকে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ