প্রিন্ট ও ডাউনলোড সংস্করণ সুন্দর A4 প্রিন্ট, PDF এবং HD JPG
← ফিরে যান
PDF ডাউনলোড চাপলে Print Destination থেকে Save as PDF নির্বাচন করুন।
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ
নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ Kismat Noapara, Jashore Sadar, Jashore
01999466391 | info@newsbari.com
জাতীয়

মাদ্রাসায় শিশুসুরক্ষা: অস্বীকার ও দোষারোপের বৃত্ত ভেঙে সমাধানের পথে

মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুসুরক্ষার প্রশ্নটি সাম্প্রতিক সময়ে জনমতকে তীব্রভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। একাধিক প্রতিবেদন ও গোপন সূত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা য
প্রতিবেদক: M Tech Solution BD প্রকাশ: Nov 5, 2026 প্রিন্ট: 06 Nov 2026, 09:13 AM
মাদ্রাসায় শিশুসুরক্ষা: অস্বীকার ও দোষারোপের বৃত্ত ভেঙে সমাধানের পথে

মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুসুরক্ষার প্রশ্নটি সাম্প্রতিক সময়ে জনমতকে তীব্রভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। একাধিক প্রতিবেদন ও গোপন সূত্রে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, কিছু মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানেই শিশু শোষণ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে। এসব অভিযোগের তীব্রতা ও বিস্তার সমাজের মূলধারায় এই সমস্যার প্রতি ত্বরিত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছে। বিশেষত, শিশুরা যে পরিবেশে শিখে-শোনে, তা নিরাপদ ও সুরক্ষিত কিনা তা নিশ্চিত করা এখন জাতীয় নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার ঐতিহাসিক পটভূমি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রাচীনকাল থেকে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিক গঠনের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল। তবে আধুনিক সময়ে সমাজের পরিবর্তনশীল চাহিদা ও শিশু অধিকার সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে এই কাঠামোতে বহুবার সংস্কার আনা হয়েছে। তবুও, কিছু অঞ্চলে পুরনো রীতিনীতি, স্বশাসন ও স্বচ্ছতার অভাবের কারণে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পটভূমি বোঝা ছাড়া সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়।

বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, মানবাধিকার কর্মী ও অভিভাবকগণ এই বিষয়টি উত্থাপন করে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তারা দাবি করছেন, মাদ্রাসা পরিচালনাকারী সংস্থাগুলোকে স্বচ্ছতা, তদারকি ও নিয়মিত অডিটের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি, শিশুরা যে কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হলে তা দ্রুত আইনি পথে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারী ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ কমিটি ইতিমধ্যে কিছু মাদ্রাসায় তদন্ত শুরু করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়েছে। এইসব পদক্ষেপের ফলে সমাজে শিশুর অধিকার রক্ষার প্রতি আস্থা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

অধিকাংশ মাদ্রাসা পরিচালনাকারী সংস্থা এখনো স্বীকারোক্তি দিতে অনিচ্ছুক হলেও, সরকার ইতিমধ্যে একটি সমন্বিত নীতি প্রণয়ন করেছে। নতুন নীতিতে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানে শিশু সুরক্ষা কমিটির গঠন, নিয়মিত মনিটরিং, এবং নির্যাতনের অভিযোগে দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তদুপরি, প্রশিক্ষিত সামাজিক কর্মী ও মনোবিজ্ঞানীর সহায়তায় শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে এই নীতিগুলো কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে শিশুর নিরাপত্তা ও অধিকারকে একসঙ্গে সংহত করা সম্ভব হবে।

© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নিউজ বাড়ি | সর্বশেষ বাংলা সংবাদ