সাম্প্রতিক সময়ে নাহিদ ইসলাম সরকারকে সমালোচনা করে বলেন যে, সরকার পুরো সংস্কার প্রক্রিয়াকে ভন্ডুল করতে চাচ্ছে। তিনি দাবি করেন যে, নীতি নির্ধারকরা অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের মূল চালিকা শক্তি হিসেবে গৃহীত সংস্কারমূলক পদক্ষেপগুলোকে দুর্বল করে দিতে চাচ্ছেন। এই বক্তব্যের পর দেশব্যাপী বিভিন্ন সেক্টরের কর্মী ও বেসরকারি সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ সংস্কারগুলোই দেশের দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত।
এই পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে সরকারের বিভিন্ন নীতিগত পরিবর্তন। ২০১০ থেকে ২০২০ পর্যন্ত বহুবার অর্থনৈতিক সংস্কার চালু করা হয়েছিল, কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সেগুলো পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন যে, সরকার এখন নতুন করে ‘সামাজিক ন্যায্যতা’ ও ‘বেসরকারি উদ্যোগ’কে অগ্রাধিকার দিয়ে পুরোনো সংস্কার পরিকল্পনাগুলোকে বাতিল করতে চাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে, অনেকেই মনে করেন যে, সরকারের এই পদক্ষেপগুলো দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে বিপন্ন করতে পারে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে সঠিক সময়ে সঠিক সংস্কার বাস্তবায়নের ওপর। সরকার যদি এই প্রক্রিয়াকে ভন্ডুল করে, তবে তা দেশের উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।” তার বক্তব্যে বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা সমর্থন জানায়। জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগের ছাপ দেখা যাচ্ছে, বিশেষত কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে যারা নির্ভরশীল, তাদের মধ্যে ভয়ের আভাস ফুটে উঠেছে।
প্রতিক্রিয়ায়, সরকারী বিভাগগুলো জানিয়েছে যে, তারা সংস্কার প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখবে এবং সংশোধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা সংস্কার নীতির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করবে এবং প্রয়োজনীয় সমন্বয় সুপারিশ করবে। ভবিষ্যতে, সরকারকে নীতিগত স্বচ্ছতা ও অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে, যাতে দেশের উন্নয়নমূলক লক্ষ্যগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়।